উত্তর আমেরিকা

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ালেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ১৯ সেপ্টেম্বর- ইরানের ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও অন্যান্য বিধিনিষেধ আরও বাড়ানোর সুযোগ রেখে পাস হওয়া একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার ট্রাম্প এইচ.আর. ৫৩৩৪ ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ আইনে পরিণত করেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

আইনটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যমান বিধিনিষেধ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও দীর্ঘ করেছে।

নতুন আইনের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ইরান স্যাংশনস অ্যাক্টের মেয়াদ ২০২৬ সাল থেকে বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের নথিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের জ্বালানি খাতসহ নির্দিষ্ট কিছু লেনদেন এবং দেশটির অস্ত্র সক্ষমতা অর্জন বা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনি কাঠামো এই আইনের মাধ্যমে বহাল থাকছে।

রাশিয়ার বিরুদ্ধেও বাড়ছে চাপ

আইনটির বড়্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করা কিছু দেশ বা প্রতিষ্ঠানের বির একটি অংশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ মার্কিন প্রশাসনকে দিচ্ছে।

আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করা কিছু দেশ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া রাশিয়া থেকে সরাসরি আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের অনুমোদনও আইনে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহৃত রুশ ইউরেনিয়াম এবং কিছু মেডিকেল আইসোটোপের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

রাশিয়ার জ্বালানি খাত, প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কংগ্রেসে পাসের পর ট্রাম্পের স্বাক্ষ

আইনটি আগস্টে মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদ ২৬২-১৫৯ ভোটে সিনেটের সংশোধিত সংস্করণ অনুমোদন করে। পরে শুক্রবার ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করেন।

আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। গ্রাহাম রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন এবং আইনটির প্রস্তাব ও আলোচনা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি জুলাইয়ে মারা যান।

তেহরানের ওপর নতুন চাপ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অর্থনীতি, জ্বালানি খাত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। নতুন আইনের ফলে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার আইনি ভিত্তি অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।

ওয়াশিংটনের এই নিষেধাজ্ঞা নীতিকে তেহরান দীর্ঘদিন ধরে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

নতুন আইন কার্যকর হওয়ার ফলে ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের মেয়াদ আরও দীর্ঘ হলো। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপরও ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ানোর আইনি ক্ষমতা সম্প্রসারিত হয়েছে।

ফলে আইনটি শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, রাশিয়ার তেল-গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর বাণিজ্যিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোন দেশের ওপর কী হারে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হবে, তার বড় অংশই মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এস এম/ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language