উত্তর আমেরিকা

জাতিসংঘে এআই ও নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘ

ওয়াশিংটন, ১৯ সেপ্টেম্বর- আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন যখন নতুন করে জরুরি হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এতে একাধিক দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর সরকারি বিধিনিষেধ আরোপের ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এই প্রযুক্তি নিয়ে যেসব উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, সেগুলো নিছক একটি ‘প্রতারণা’ বা ‘ভুয়া’ বিষয়।

এআই কোম্পানি ও নির্বাহীদের দৃষ্টিতে থাকা বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠকে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আয়োজনে নেতৃত্ব দেবেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এবং জন-কূটনীতি (পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি) বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ রজার্স।

এই আয়োজন সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনার একটি সুযোগ হিসেবে তুলে ধরছে। ব্যাপক পরিসরে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বা গ্রহণের পথ সহজ করতে পারে—এমন নীতিগত, আইনি ও নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয়গুলোর মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের এআই ও ডিজিটাল সহযোগিতা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্লেয়ার মেলামেদ বলেছেন, এই বৈশ্বিক সম্মেলনে এআইকেন্দ্রিক অনেক পার্শ্ব-আয়োজন থাকলেও মূল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, জাতিসংঘ এখনও মূলত প্রেক্ষাপট তৈরি ও নিজেদের অবস্থান নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য অনেক সংস্থার মতোই এআইয়ের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের প্রকৃত ভূমিকা কী হওয়া উচিত, তা বোঝার চেষ্টা করছে।

মেলামেদ বলেন, সংকট ব্যবস্থাপনায় জাতিসংঘের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরুন এআই-চালিত কোনো বড় ধরনের সাইবার হামলা হলো এবং আপনি জাম্বিয়ার কোনো হাসপাতালে বা বতসোয়ানার কোনো ব্যাংকে কাজ করছেন। সেই সাইবার হামলা যখন আপনার দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং আপনি বুঝতে পারেন না কী করবেন, তখন আপনি কার কাছে সাহায্য চাইবেন? এ ক্ষেত্রে প্রায়ই জাতিসংঘের কথা সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে বেশ আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি এআই পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ব্যবস্থা ও সুরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের কী ভূমিকা থাকতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

মেলামেদ বলেন, এআই বিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ফলাফল বা সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি আশা করছেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে থাকা ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্যদের কথা তো বাদই দেওয়া যায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য।

তিনি বলেন, তার ধারণা, অধিকাংশ মানুষই আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠকের ফলাফলের অপেক্ষায় থাকবেন। কারণ ওই বৈঠকে এআই একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এস এম/ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language