দুপুরের পরই আসতে পারে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, নতুন বেতনে যা থাকছে

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর – দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, শনিবার দুপুরের পর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
৩১ আগস্ট ২০২৬ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করা হয়। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর খসড়া প্রজ্ঞাপন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে এবং বিজি প্রেসে ছাপার কাজ চলছে।
অর্থাৎ, এখন মূল নজর সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ওপর। প্রজ্ঞাপন জারি হলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরবর্তী প্রশাসনিক কাজ শুরু হবে।
নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর?
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর কার্যকর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ ধরা হয়েছে। তবে পুরো কাঠামো একবারে কার্যকর করা হচ্ছে না। আর্থিক প্রভাব বিবেচনায় ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮—এই দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মূল বেতন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
কোন গ্রেডে কত মূল বেতন?
নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেডই বহাল থাকছে। অনুমোদিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক মূল বেতন হলো:
| গ্রেড | আগের মূল বেতন | নতুন মূল বেতন |
|---|---|---|
| ১ম | ৭৮,০০০ | ১,৫৬,০০০ |
| ২য় | ৬৬,০০০ | ১,৩২,০০০ |
| ৩য় | ৫৬,৫০০ | ১,১৩,০০০ |
| ৪র্থ | ৫০,০০০ | ১,০০,০০০ |
| ৫ম | ৪৩,০০০ | ৮৬,০০০ |
| ৬ষ্ঠ | ৩৫,৫০০ | ৭১,০০০ |
| ৭ম | ২৯,০০০ | ৫৮,০০০ |
| ৮ম | ২৩,০০০ | ৪৬,০০০ |
| ৯ম | ২২,০০০ | ৪৪,০০০ |
| ১০ম | ১৬,০০০ | ৩২,০০০ |
| ১১তম | ১২,৫০০ | ২৫,০০০ |
| ১২তম | ১১,৩০০ | ২৪,৩০০ |
| ১৩তম | ১১,০০০ | ২৪,০০০ |
| ১৪তম | ১০,২০০ | ২৩,৫০০ |
| ১৫তম | ৯,৭০০ | ২২,৮০০ |
| ১৬তম | ৯,৩০০ | ২১,৯০০ |
| ১৭তম | ৯,০০০ | ২১,৪০০ |
| ১৮তম | ৮,৮০০ | ২১,০০০ |
| ১৯তম | ৮,৫০০ | ২০,৫০০ |
| ২০তম | ৮,২৫০ | ২০,০০০ |
এই কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের অনুপাত ১:১.৭৮ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের ১:১.৯৪৫ অনুপাতের তুলনায় কম।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন কী সুবিধা?
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ মূল বেতনের পাশাপাশি কয়েকটি নতুন সুবিধার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
এ ছাড়া সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পেনশনে কী পরিবর্তন হচ্ছে?
নতুন কাঠামোয় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের নিট পেনশনও স্ল্যাব অনুযায়ী বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
| বর্তমান নিট পেনশন | বৃদ্ধির হার |
|---|---|
| ৯,০০০ টাকা বা কম | ১০০% |
| ৯,০০১–২০,০০০ টাকা | ৭৫% |
| ২০,০০১–৩০,০০০ টাকা | ৬৫% |
| ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা | ৬০% |
| ৪০,০০১ টাকা বা বেশি | ৫৫% |
এই ব্যবস্থা মূলত অবসরপ্রাপ্তদের জন্য অন্তর্বর্তী সুবিধা হিসেবে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কতজন উপকৃত হবেন?
সরকারি তথ্য ও প্রকাশিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন জাতীয় বেতনস্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সুবিধা পাবেন। এর সঙ্গে প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী পেনশনসংক্রান্ত পরিবর্তনের আওতায় থাকবেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর কারণে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা হতে পারে বলে প্রকাশিত তথ্যগুলোতে বলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর কী হবে?
প্রজ্ঞাপন জারি হলে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি আইবাস++ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলবে বলে সংশ্লিষ্টদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর কোন কর্মচারীর ক্ষেত্রে কোন ধাপে কত টাকা কার্যকর হবে, বকেয়া কীভাবে সমন্বয় হবে এবং পে-ফিক্সেশন কীভাবে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রশাসনিক নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এক নজরে নবম পে-স্কেল ২০২৬
- অনুমোদন: ৩১ আগস্ট ২০২৬
- কার্যকর তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬
- গ্রেড: ২০টি
- সর্বনিম্ন মূল বেতন: ২০,০০০ টাকা
- সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,৫৬,০০০ টাকা
- সর্বনিম্ন গ্রেডে বৃদ্ধি: ১৪২%
- সর্বোচ্চ গ্রেডে বৃদ্ধি: ১০০%
- মূল বেতন বাস্তবায়ন: তিন ধাপে
- বাস্তবায়নের সময়কাল: ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছর
- বিভিন্ন ভাতা: ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ভাতা: মাসে ৩,০০০ টাকা
- এক গ্রেড এক পেনশন: ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত
- অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয়: আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
এখন নজর কোথায়?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কখন প্রকাশিত হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর প্রকাশের সম্ভাবনার কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিন্তু সরকারি গেজেট হাতে না আসা পর্যন্ত এটিকে সম্ভাব্য সময় হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে সেটিই হবে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সরকারি দলিল। তখন বেতন ফিক্সেশন, বকেয়া সমন্বয় এবং বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের সুনির্দিষ্ট নিয়ম আরও পরিষ্কার হবে।
FAQ
নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন কবে প্রকাশ হতে পারে?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরের পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত সরকারি গেজেট প্রকাশের নিশ্চিত নথি পাওয়া যায়নি।
নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন কত?
২০তম গ্রেডে নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ মূল বেতন কত?
১ম গ্রেডে নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
নতুন পে-স্কেল কবে থেকে কার্যকর?
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর কার্যকর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬। তবে এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
পেনশন কত বাড়বে?
নিট পেনশনের পরিমাণ অনুযায়ী বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা কত?
প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।







