জাতীয়

প্রবাসীদের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ: প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান করে ৩৬ সদস্যের ‘জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর – প্রবাসী কর্মীদের অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং বিশ্বের বুকে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক উন্মোচন করেছে সরকার। প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ সহজ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছে ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি জানানো হয়। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীকে সহ-সভাপতি করে ৩৬ সদস্যের এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্বঘোষিত শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো

প্রবাসীদের সুফল নিশ্চিত করতে সরকারের শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের একই ছাতার নিচে আনা হয়েছে:

কমিটির প্রধান: প্রধানমন্ত্রী (সভাপতি) এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী (সহ-সভাপতি)।

সদস্য মন্ত্রীগণ: পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, পরিকল্পনা, বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান, স্থানীয় সরকার, সমাজকল্যাণ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীও এতে থাকবেন।

সচিবদের সরাসরি সম্পৃক্ততা: ১৮টি ভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের সচিবদেরকে (সিনিয়র সচিবসহ) সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

স্টিয়ারিং কমিটির মূল দায়িত্ব ও লক্ষ্য

এই কমিটি মূলত প্রবাসীদের কল্যাণ এবং দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে আধুনিকায়ন করতে একাধিক সুদূরপ্রসারী এজেন্ডা নিয়ে কাজ করবে:

নতুন বাজার অনুসন্ধান ও খরচ হ্রাস: বিভিন্ন দেশের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করা এবং অভিবাসন খরচ (Migration Cost) সর্বনিম্নে নামিয়ে আনার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

পেনশন ও বিমা তদারকি: প্রবাসীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য চালু থাকা ‘প্রবাস’ সর্বজনীন পেনশন স্কিম এবং বিমা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা।

প্রত্যাগত প্রবাসীদের পুনর্বাসন: প্রবাস ফেরত কর্মীদের মনোসামাজিক সুরক্ষা এবং পেশাগত পুনর্বাসনে ‘প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মী পুনঃএকত্রীকরণ নীতি, ২০২৫’ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা।

জিসিএম জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০): নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন’ (GCM)-এর ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের কর্মপরিকল্পনা তদারকি করা।

গ্রিন জবস ও দক্ষ জনশক্তি: জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরিবেশবান্ধব ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ‘সবুজ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ চালু করা।

সভার সময়সূচী ও পরিচালনা প্রক্রিয়া

বছরে অন্তত এক বৈঠক: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বছরে অন্তত একবার এই স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় শ্রম অভিবাসন ফোরাম এবং স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের মধ্যবর্তী সময় ৬ মাসের বেশি হবে না।

সাচিবিক সহায়তা: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কমিটিকে সার্বিক সাচিবিক সহায়তা দেবে।

আমন্ত্রিত অতিথি: প্রয়োজনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বায়রা (BAIRA) প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো যাবে।

প্রবাসী মহলে নতুন আশা

বিদেশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত ব্যবস্থার। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে এই ৩৬ সদস্যের শক্তিশালী কমিটি গঠিত হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস, নারীকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণ আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এনএন/ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language