ব্যবসা

হুতিদের ক্রমাগত রকেট-ড্রোন হামলা সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলো! স্বস্তির নেপথ্যে কী?

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর – মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত রকেট ও ড্রোন হামলার মধ্যেও আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র! ইয়েমেনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের অব্যাহত সামরিক তৎপরতার মাঝেই সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দরপতনের মুখ দেখেছে।

সৌদি আরব থেকে লোহিত সাগর হয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত এবং সামুদ্রিক পথগুলোতে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার খবরেই আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িক এই স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের বর্তমান বাজারদর

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববাজারে তেলের দর কমার সূচকটি ছিল নিম্নরূপ:

ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১ সেন্ট (বা ০.৭৮%) কমে দাঁড়িয়েছে ১০৩.০৬ ডলারে।

ডব্লিউটিআই ক্রুড (WTI Crude): যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট (বা ০.৮৯%) পর্যন্ত হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯.৪১ ডলারে।

আরামকো স্থাপনায় হামলা ও ইন্টারসেপ্টের সাফল্য

বিশ্ববাজারে তেলের বাজার অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ সহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোকে নিশানা বানিয়ে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা।

সশস্ত্র গোষ্ঠীটির মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল সৌদি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি জায়ান্ট ‘আরামকো’-এর (Aramco) একটি কৌশলগত অবকাঠামো। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের ক্ষিপ্র এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সাহায্যে আকাশে থাকা অবস্থাতেই হুতিদের ছোঁড়া সবকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন ধ্বংস করতে সমর্থ হয়।

কেন কমলো তেলের দাম? আসল কারণ কী?

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত তুঙ্গে থাকলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার নেপথ্যে ৩টি প্রধান নিয়ামক কাজ করেছে:

১. অবকাঠামো অক্ষত থাকা: হুতিদের আকস্মিক হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হওয়ায় আরামকোর তেল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামোতে কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।

২. সরবরাহ অক্ষুণ্ন রাখার আশ্বাস: তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর পক্ষ থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির যোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাজারে হঠাৎ ঘাটতির আশঙ্কা কেটে গেছে।

৩. লোহিত সাগরে শিপিং রুট সচল: সৌদি আরব থেকে লোহিত সাগরের রুট ব্যবহার করে নিয়মিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসার সংকেত বাণিজ্য মহলকে স্বস্তি দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতামত ও উদ্বেগ

যদিও সোমবারে তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে, তবুও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখনো উত্তপ্ত। হুতিদের হামলা প্রতিহত করা গেলেও অদূর ভবিষ্যতে নতুন কোনো বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে তেলের বাজার আবার একলাফে উর্ধ্বমুখী হতে পারে।

এনএন/ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language