ন্যাম ভবনে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার: ‘হত্যাকাণ্ড’ ও ‘জোরপূর্বক বিয়ে’র বিস্ফোরক দাবি মামার, নেপথ্যে নতুন বিতর্ক

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর – রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তৈরি হয়েছে নতুন নাটকীয়তা ও গভীর রহস্য। নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান একে সাধারণ আত্মহত্যা মানতে নারাজ; তিনি সরাসরি এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ওবায়দুর রহমান এমপি গাজী নজরুলের সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। তবে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জের ধরে পরবর্তীতে তিনি নজরুলের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
বিয়েটাই হয়েছিল জোর করে’—মামার চাঞ্চল্যকর তথ্য
মরদেহ উদ্ধারের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চরম ক্ষোভ ও আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ওবায়দুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “মরিয়ম আমার মেয়ের মতো। ওর লেখাপড়ার সব খরচ আমি দিতাম। এই নজরুলের জন্য আমার সেই মেয়ের এমন অবস্থা হলো। এটা আমি কীভাবে সহ্য করব।” ভিডিও ফাঁসের পর মানসিক বিষণ্নতা বা পারিবারিক কলহ নিয়ে কোনো তথ্য না জানালেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিয়েটা হয়েছিল জোর করে। গাজী নজরুল যে অনৈতিক কাজ করেছে, এটা আমি সহ্য করতে পারিনি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত সমর্থক ও নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। তাঁদের একাংশের দাবি, কয়েক মাস আগে ব্যক্তিগত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হওয়ার কারণে সৃষ্টি হওয়া সামাজিক চাপ ও মানসিক বিষণ্নতাই মরিয়মকে এই করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এমপি নজরুলের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও দলীয় বহিষ্কার
এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পারিবারিক জটিলতার ইতিহাস:
নির্বাচনী বিজয়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম।
ভিডিও বিতর্ক ও দ্বিতীয় বিয়ে: চলতি বছরে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর অতি-ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওর তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম এবং চলতি বছরের ১৭ জুন তাঁদের বিয়ে হয়।
দল থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার: নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করে এবং তাঁর সংসদ সদস্য পদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।
পুলিশি পদক্ষেপ ও তদন্তের বর্তমান অবস্থা
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ৩য় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রীকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এটি আসলেই পরিকল্পিত কোনো ‘হত্যাকাণ্ড’ নাকি ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’—এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শেষ না করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এনএন/ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬







