মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা! ক্যাম্প ডেভিড ছেড়ে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ওয়াশিংটন, ২০ সেপ্টেম্বর – মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও তীব্র সামরিক উত্তেজনার আবহেই বড় ও অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ম্যারিল্যান্ডের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিখ্যাত অবকাশ কেন্দ্র ‘ক্যাম্প ডেভিড’ থেকে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই আকস্মিক হোয়াইট হাউজে ফিরে এসেছেন তিনি। মূলত রোববার ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও শনিবার রাতে তড়িঘড়ি করে ওয়াশিংটনে ফেরেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এই আকস্মিক প্রস্থানের স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও তেল অবকাঠামোতে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার পরিস্থিতিই যে এর নেপথ্যে, তা স্পষ্ট।
হুথিদের মিসাইল হামলা ও সৌদির কঠোর জবাবের হুমকি
এই জরুরি সংকটের মূল সূত্রপাত ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবে তাণ্ডব চালানোকে কেন্দ্র করে।
ঘটনার মূল পটভূমি:
রিয়াদে ব্যালাস্টিক মিসাইল: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ব্যালাস্টিক মিসাইল ও ড্রোন বর্ষণ করে হুথিরা।
আরামকোর ফুয়েল ডিপোতে আগুন: রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’র একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে আঘাত হানে হামলাকারীরা। এতে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটে ও আকাশে তীব্র ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা যায়।
সৌদির কড়া হুঁশিয়ারি: নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্পর্শকাতর বিমানবন্দরে হামলার পর হুথিদের বিরুদ্ধে চরম ও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি জারি করেছে সৌদি প্রশাসন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের চরম সতর্কবার্তা (Worldwide Caution)
সৌদিতে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করতে জারি করা হয়েছে হাই-অ্যালার্ট ট্রাভেল এডভাইজারি।
“মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সামরিক সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত রূপ নিতে পারে। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বাণিজ্যিক বিমানবন্দরসহ একাধিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য বানিয়ে চলেছে। এই অঞ্চলে অবস্থানরত বা ভ্রমণে ইচ্ছুক মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও যাতায়াতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করা হচ্ছে।” —মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (US State Department)
মহাযুদ্ধের নতুন শঙ্কা
গত জুলাই মাসে ইয়েমেনি বাহিনী ও হুথিদের সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার পর ইয়েমেনের সেনাদের সমর্থন জানিয়ে সৌদি আরব বিমান হামলা শুরু করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে হুথিরা সৌদির আরামকো ডিপোসহ বেশ কিছু অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ জোরদার করে। সার্বিক পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি-নির্ধারকদের এই জরুরি প্রত্যাবর্তন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান।
এনএন/ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬







