মক্কা চুক্তির পরীক্ষা! হুথিদের হামলায় জ্বলছে আরামকো, সৌদিতে প্রযুক্তিগত সামরিক সহায়তার ঘোষণা তুরস্কের

আঙ্কারা, ২০ সেপ্টেম্বর – সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ওপর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত জ্বালানি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘সৌদি আরামকো’ (Saudi Aramco)-র একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালায় হুথিরা। এতে বিমানবন্দর সংলগ্ন ফুয়েল ডিপোতে আগুন ধরে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে উঠতে দেখা যায়। ঘটনার পর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় বিমানবন্দরটিতে শত শত ফ্লাইট বাতিল ও ব্যাপক বিলম্বের খবর পাওয়া গেছে।
সৌদির সুরক্ষায় তুরস্কের সামরিক ও প্রযুক্তিগত বার্তা
সৌদি আরবের ওপর এই হামলার পর পরই আঙ্কারা থেকে কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তার আশ্বাস এসেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনটিভি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘মক্কা চুক্তি’ অনুযায়ী সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তারা সৌদির পাশে দাঁড়াতে সংকল্পবদ্ধ।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল দিকসমূহ:
1. প্রযুক্তিগত ও সামরিক সাহায্য: সৌদি আরবের ভৌগোলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশেষ করে ‘টেকনিক্যাল মিলিটারি’ ইস্যুতে দ্রুত সব ধরণের সহায়তা প্রদানে তুরস্ক প্রস্তুত।
2. চুক্তির প্রতিশ্রুতি: সৌদিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত এসব প্রযুক্তি ও সামরিক সহায়তা দিতে আঙ্কারার কোনো দ্বিধা বা আইনি বাধা নেই।
3. ঐতিহাসিক ভিত্তি: গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে তিন দেশের শীর্ষ নেতাদের ঐতিহাসিক চুক্তির ওপর দাঁড়িয়েই এই সামরিক সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
“আমরা দেখছি সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। সৌদির যেসব টেকনিক্যাল ও সামরিক সহায়তা প্রয়োজন, তা যোগাতে আমাদের কোনো বাধা নেই।”
— **হাকান ফিদান (পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তুরস্ক)
কী এই বহুল আলোচিত ‘মক্কা চুক্তি’?
গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের শীর্ষ নেতারা পবিত্র মক্কা নগরীতে এক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী: “তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে, তা তিন দেশের ওপরই যৌথ হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।”
রিয়াদের অবকাঠামোতে হুথি হামলার পর ‘মক্কা চুক্তি’র অংশীদার হিসেবে তুরস্ক যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন কৌশলগত অক্ষ ও নিরাপত্তা সমীকরণ তৈরি করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এনএন/ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬







