ইউরোপ

ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব নাকচ করল আইসল্যান্ডের জনগণ

রেকজাভিক, ৩০ আগস্ট – ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছে আইসল্যান্ডের জনগণ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভি জানিয়েছে, ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী না ভোট স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুসারে, গণনা হওয়া ভোটের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ ইইউতে যোগদানের আলোচনার বিপক্ষে পড়েছে।

অন্যদিকে আলোচনার পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার। আইসল্যান্ডের ছয়টি নির্বাচনী জেলার মধ্যে একটিতে সামান্য কিছু ভোট গণনা বাকি থাকলেও ফলাফলের ব্যবধান অপরিবর্তনীয় বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে দেশটির সরকার ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাবকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তুন ফ্রস্টাদোত্তির গত আগস্টে ভোটারদের সতর্ক করে বলেছিলেন, এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হলে ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য ছিল গণভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট সংগ্রহ করা।

তবে ভোটের এই ফলাফল সরকারের উদ্যোগের জন্য বড় একটি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইইউপন্থী পক্ষগুলো প্রচার চালিয়েছিল যে, জোটের সদস্য হলে আইসল্যান্ডের অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে এবং উচ্চ সুদের হার কমবে। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সহায়ক হবে বলে তারা দাবি করেছিল।

বিশেষ করে উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের বিষয়টিও তারা তুলে ধরেছিল। অন্যদিকে বিরোধিতাকারীরা জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিয়েছে। তাদের দাবি ছিল, ইইউতে যোগ দিলে আইসল্যান্ডের মৎস্যসম্পদের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ ও অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

এই অর্থনৈতিক ও সার্বভৌমত্বের উদ্বেগের কারণেই শেষ পর্যন্ত না পক্ষ জয়ী হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সালে প্রথমবার ইইউ সদস্যপদের আবেদন করলেও ২০১৩ সালে একটি ইইউবিরোধী সরকার সেই প্রক্রিয়া স্থগিত করে দিয়েছিল।

এস এম/ ৩০ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language