দক্ষিণ এশিয়া

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নতুন সদস্য নেওয়ার সুযোগ রয়েছে: পাকিস্তান

ইসলামাবাদ, ২৮ আগস্ট – মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দোরাবি। তিনি জানান, এই চুক্তিতে নতুন কোনো রাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করার আগে রিয়াদ ও আঙ্কারার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও পরামর্শ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা এসময় বাংলাদেশ প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট বা এমজেডিএ স্বাক্ষরিত হয়। আঞ্চলিক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই চুক্তিটি যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই চুক্তির একটি প্রধান শর্ত হলো, চুক্তিবদ্ধ তিনটি দেশের কোনো একটির ওপর আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে যে আলোচনা চলমান রয়েছে তা তিনি স্বীকার করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের মুখপাত্র বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি পরিবর্তনশীল ও ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো।

এটি এমন সব দেশের জন্য উন্মুক্ত যারা যৌথ দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে আগ্রহী। তিনি আরও জানান যে, এই চুক্তিতে যোগদানের জন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসলে তা রিয়াদ ও আঙ্কারার সহযোগীদের সঙ্গে পরামর্শ করেই বিবেচনা করা হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির সার্বিক কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

এই সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সক্রিয় সামরিক বাহিনী এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। অন্যদিকে সৌদি আরবের রয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং তুরস্ক হলো ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য যাদের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে।

এস এম/ ২৮ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language