নেপালে বন্যা থেকে অলৌকিক রক্ষা, দেশে ফিরলেন তামিলনাড়ুর ২১ তীর্থযাত্রী

চেন্নাই, ২৯ আগস্ট – নেপালে তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাওয়া তামিলনাড়ুর ২১ জন তীর্থযাত্রী দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের চোখেমুখে ছিল ভয়াবহ সেই স্মৃতির আতঙ্ক এবং নতুন জীবন পাওয়ার স্বস্তি। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই অভিজ্ঞতাকে তারা দ্বিতীয় জন্ম হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তীর্থযাত্রীদের বর্ণনামতে, তিনটি বাসের বহর নিয়ে তারা নেপাল ভ্রমণে গিয়েছিলেন। হঠাৎ তুষারধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। পানির তীব্র স্রোতে তাদের বহরের দুটি বাস ভেসে যায়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে বাসের ছাদ এবং আশপাশের উঁচু স্থানে আশ্রয় নেন। ভয়াবহ সেই পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে তীর্থযাত্রী বিজয়ভুবনেশ্বরী বলেন, বন্যার পানি যখন আঘাত হানে তখন সেটি কোনো বোমা বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ তৈরি করেছিল।
তিনি জানান, তাদের সামনে এবং পেছনের গাড়িগুলো আটকে যাওয়ায় তারা সেগুলোর ওপর উঠে প্রাণ বাঁচান। পরে পার্শ্ববর্তী একটি পাহাড়ে অবস্থিত সশস্ত্র পুলিশ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন তারা। নেপাল পুলিশ তাদের সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা প্রদান করে।
আরেক তীর্থযাত্রী কিরুবাথিরি একে নিজের পুনর্জন্ম হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাস্তব সত্য এবং এর মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে প্রবীণ তীর্থযাত্রী ভল্লিনায়াকি প্রকৃতির এই ভয়ংকর রূপকে একটি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার সড়ক, সেতু ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এস এম/ ২৯ আগস্ট ২০২৬









