যুদ্ধের উত্তাপে সচল হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক টাংস্টেন খনি

ক্যানবেরা, ২০ আগস্ট – বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি ঐতিহাসিক টাংস্টেন খনি পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। কিং আইল্যান্ডের বিখ্যাত ডলফিন খনিটি বড় ধরনের যুদ্ধের সময় বারবার সচল হওয়ার রেকর্ডের জন্য পরিচিত।
এবার বিশ্বব্যাপী যুদ্ধাস্ত্র তৈরির কাঁচামালের চাহিদা বাড়ায় খনিটিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডলফিন খনিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম টাংস্টেন মজুত রয়েছে। অত্যন্ত শক্ত এবং তাপসহনশীল এই ধাতু মূলত ট্যাংক বিধ্বংসী গোলাবারুদ এবং সামরিক যানের বর্ম তৈরিতে অপরিহার্য।
১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই খনির যাত্রা শুরু হয়েছিল। মূলত যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের জোগান দেওয়াই ছিল এর লক্ষ্য। তবে ১৯২০ সালে যুদ্ধের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৩৮ সালে এটি আবারও সচল করা হয়।
একই ধারাবাহিকতায় কোরীয় যুদ্ধ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও খনিটি চাহিদা অনুযায়ী চালু ও বন্ধ হয়েছে। এমনকি স্নায়ুযুদ্ধের সময় অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়লে এটি পুনরায় চালু করা হয়েছিল। তবে ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর দীর্ঘ তিন দশকের জন্য এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২২ সালে খনিটি পুনরায় সচল করার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২০২৬ সালের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় এই খনি থেকে আকরিক উত্তোলনের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ভূগর্ভস্থ অংশ থেকে টাংস্টেন আকরিক সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে টাংস্টেন উৎপাদনের ক্ষেত্রে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে চীন। তবে বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস খুঁজতে পশ্চিমা দেশগুলো এখন বেশ তৎপর।
বিশেষ করে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে এই ধাতুর সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও সম্প্রতি কাজাখস্তানে একটি বড় খনি প্রকল্পে বিনিয়োগের চুক্তি করেছে। মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও টাংস্টেন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এস এম/ ২০ আগস্ট ২০২৬







