ইউরোপ

পর্তুগালে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়ছেন ২ হাজারের বেশি কর্মী

লিসবন, ১৯ আগস্ট – পর্তুগালজুড়ে তীব্র তাপদাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ গ্রামীণ দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন দুই সহস্রাধিক জরুরি সেবা কর্মী। তাদের এই অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য অন্তত ২০টি বিশেষ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ওয়েবসাইটের প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে যে বর্তমানে পর্তুগালের একটি বিশাল অংশ চরম অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পর্তুগিজ ইনস্টিটিউট ফর সি অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ার মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত দেশটির নয়টি জেলাকে অরেঞ্জ অ্যালার্ট বা কমলা সতর্কতার আওতায় এনেছে। এছাড়া রাজধানী লিসবন, সেতুবাল এবং ফারো বাদে পর্তুগালের মূল ভূখণ্ডের প্রায় সর্বত্র ইয়োলো বা হলুদ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

দেশটির জাতীয় জরুরি ও সিভিল প্রোটেকশন অথরিটি জানিয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যভাগের অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোতে দাবানলের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকায় সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে দেশটির উত্তর-পূর্ব ব্রাগানসা জেলার তোরে দে মনকোর্ভো এলাকায় আগুন সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত শনিবার শুরু হওয়া এই আগুনে ইতোমধ্যে দুই হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেখানে ৪০০ কর্মী এবং ১৪০টি গাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। স্থানীয় মেয়র জোসে মেনেসেস আশা প্রকাশ করেছেন যে খুব দ্রুতই আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে আভিইরো জেলার আরৌকাতে সোমবার রাতে নতুন করে আগুন লাগার পর সেখানে ৩০০ কর্মী কাজ করছেন। পোরতো মেট্রোপলিটন এলাকার সানতো তিরসোতেও ৯০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে যাওয়ায় সেখানে আরও ২০০ কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে পর্তুগালকে আগামী কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অত্যন্ত জটিল ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হতে পারে।

এস এম/ ১৯ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language