পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু: জিরো টলারেন্স নীতিতে রাজ্য সরকার

কলকাতা, ১৯ আগস্ট – কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যের তিন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় সাংবাদিকদের জানান, জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী কোনো কর্মকাণ্ড বা সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘন সরকার সহ্য করবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরণের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। কোনো অবস্থাতেই নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য বাড়ি এবং গেস্ট হাউস বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স বা অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র আছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে।

আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। নিহতদের পরিচয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অগ্নিকাণ্ডে হতাহত ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক বা তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে কোনো বাংলাদেশি পর্যটক সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পৌরসভার গাফিলতি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তাপস রায় বলেন, যদি কলকাতা পৌরসভা বা মেয়রের কোনো ত্রুটি বা অবহেলা প্রমাণিত হয়, তবে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

যার বিরুদ্ধেই নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলবে, তার বিরুদ্ধেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিদর্শনকালে পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, বুধবার ভোররাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুন লাগে। দমকল বাহিনী ও পুলিশের প্রচেষ্টায় প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ধোঁয়ায় অসুস্থ ৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এস এম/ ১৯ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language