রাজবাড়ী

রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কে দেড় বছরে ঝরল ৩৫ প্রাণ: আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

রাজবাড়ী, ৯ আগস্ট – রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কটি বর্তমানে যাত্রী ও চালকদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত দেড় বছরে এই সড়কের রাজবাড়ী শহর থেকে পাংশা উপজেলার শিয়ালডাঙ্গি পর্যন্ত মাত্র ৩১ কিলোমিটার অংশে ৬২টি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১১৫ জন।

পাংশা হাইওয়ে থানা সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহনের অবাধ চলাচল, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করাই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। বিশেষ করে গত ১২ জুন থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্তত সাতটি বড় দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। ১২ জুন কালুখালীতে প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত রিকশার সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

এরপর ২২ জুন ট্রাক ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে এক যুবক এবং ১ জুলাই বাস ও পিকআপের সংঘর্ষে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া চন্দনী এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী এবং ৩ আগস্ট কালুখালীতে মাহেন্দ্র চালক প্রাণ হারান।

সরেজ‌মি‌নে দেখা যায়, মহাসড়কে বড় যানবাহনের পাশাপাশি ইজিবাইক, নছিমন, করিমন ও ভটভটির মতো ধীরগতির তিন চাকার যান নিয়মিত চলাচল করছে। যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো প্রায়ই নিয়ম না মেনে একে অপরকে ওভারটেকিং করছে। চালকদের মধ্যে বেপরোয়া গতির প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ যানবাহন চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এছাড়া বৃষ্টির সময় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া এবং মহাসড়ক সরু হওয়াকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

বাস চালকদের দাবি, তিন চাকার গাড়িগুলো নিয়ম না জানায় এবং হুটহাট ব্রেক করার ফলে তারা বড় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যায় পড়েন। অন্যদিকে তিন চাকার যান চালকদের মতে, বড় গাড়িগুলো বেপরোয়া গতিতে চলে এবং ছোট গাড়িকে সাইড দিতে চায় না।

স্থানীয় জনগণের দাবি, সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা এবং অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে।

পাংশা হাইওয়ে থানার ওসি সৈয়দ আল মামুন জানান, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অতিরিক্ত গতির বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালায়। তবে অনেক সময় স্থানীয় বাধার কারণে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।

জনসচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এনএন/ ৯ আগস্ট ২০২৬


Back to top button