মধ্যপ্রাচ্য

‘পুরো ইসরায়েলি বাহিনী না হটলে এক ইঞ্চি অস্ত্রও ছাড়া হবে না’: ট্রাম্পের দাবির মাঝেই হামাসের স্পষ্ট বার্তা!

জেরুজালেম, ৩১ জুলাই – গাজায় যুদ্ধবিরতির মাঝে ট্রাম্পের এক বার্তায় সারা বিশ্বে হইচই পড়ে গিয়েছিল—তবে কি সত্যিই অস্ত্র জমা দিতে রাজি হয়েছে হামাস? মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হিসাব পাল্টে দিল ফিলিস্তিনের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীটি। হামাসের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—‘গাজা উপত্যকা থেকে শেষ ইসরায়েলি সেনা বিদায় না নেওয়া পর্যন্ত অস্ত্র সমর্পণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না!’ ট্রাম্পের দাবি আর হামাসের এই পাল্টা অবস্থানে কোন দিকে মোড় নিচ্ছে গাজার শান্তিপ্রক্রিয়া?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে দাবি করেন, কায়রোতে মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে নাকি অস্ত্র সমর্পণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি হয়েছে হামাস। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘অবিস্মরণীয় পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।

তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা হামাস নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ট্রাম্পের দাবি একপ্রকার উড়িয়ে দেন গোষ্ঠীটির অন্যতম মুখপাত্র এবং আলোচক দলের সদস্য গাজী হামাদ।

গাজী হামাদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—

সম্পূর্ণ প্রত্যাহার শর্ত: গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার বা বিদায় না নেওয়া পর্যন্ত অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না হামাস।

ইসরায়েলের কোনো হস্তক্ষেপ নয়: অস্ত্র সমর্পণের যদি কোনো প্রক্রিয়া হয়ও, তা অবশ্যই ফিলিস্তিনের কোনো অভ্যন্তরীণ জাতীয় কমিটির দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ধরণের ভূমিকা বা কর্তৃত্ব গ্রহণ করা হবে না।

হামাসের এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও জানান, তারা অস্ত্র সমর্পণ সংক্রান্ত চুক্তির একটি খসড়া হাতে পেয়েছেন সত্য, তবে এটিতে স্বাক্ষর বা সম্মতির বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের এখনও চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি।

প্রসঙ্গতঃ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস যোদ্ধারা। এর জবাবে পরদিন ৮ অক্টোবর থেকেই গাজা উপত্যকায় সর্বাত্মক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। দীর্ঘ দুই বছরের এই ভয়াবহ হামলায় গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান, যার একটি বড় অংশই নারী ও শিশু।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মহলের অব্যাহত চাপ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় উত্থাপিত শান্তি প্রস্তাব মেনে নিয়ে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরায়েল ও হামাস।

বর্তমানে গাজায় সেই যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করা এবং ভূখণ্ড থেকে সেনা সরানোর জটিল ইস্যুতে এখনও দুই পক্ষের চরম মতভেদ রয়ে গেছে। হামাসের এই সাম্প্রতিক কঠোর বার্তা প্রমাণ করে যে, গাজায় স্থায়ী শান্তির পথ এখনও বেশ দীর্ঘ ও কঠিন।

এনএন/ ৩১ জুলাই ২০২৬


Back to top button