মিসরের বন্দরে ড্রোন হামলা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত

কায়রো, ৩১ জুলাই – মিসরের একটি সমুদ্রবন্দরে বুধবার রহস্যময় এক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক সংঘাত নতুন দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এই হামলার মাধ্যমে ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে একটি পরোক্ষ বার্তা দিতে চেয়েছে। তেহরান বোঝাতে চাইছে যে, বিদ্যমান যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও দূরবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং এতে কোনও হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ.এ. হেলিয়ার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানান, এই হামলাটি সরাসরি ইরানের পরিবর্তে তেহরান সমর্থিত কোনও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরান সম্ভবত দেখাতে চায় যে তারা প্রয়োজন পড়লে প্রতিরোধ অক্ষের মিত্রদের ব্যবহার করে নতুন নতুন ফ্রন্ট খুলে দিতে পারে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, হামলাটি যখন চালানো হয় তখন বন্দরে একটি এলএনজি টার্মিনালে পণ্য খালাস চলছিল।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এবং মার্কিন মালিকানাধীন এনারগোস উইন্টার নামের একটি ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা করা হয়। ড্রোন বিস্ফোরণের ফলে সেখানে আগুনের সৃষ্টি হয় যা পরবর্তীতে পাশের অন্য একটি জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে এই প্রথম মিসর সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হলো। অথচ কায়রো বরাবরই ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছিল। তবে বিশ্লেষক হেলিয়ার মনে করেন, এই ঘটনার পরও মিসরের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনও সামরিক প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
কারণ কায়রো সাধারণত আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত রক্ষণশীল নীতি মেনে চলে। উল্লেখ্য যে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান ও মিসরের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক বিরোধ শুরু হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সংলাপ ও যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে এই রহস্যময় হামলা আঞ্চলিক রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এস এম/ ৩১ জুলাই ২০২৬









