মধ্যপ্রাচ্য

সৌদির সুরক্ষায় নামছে যৌথ বাহিনী: হুতি দমনে দ্রুত সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক

রিয়াদ, ০৬ অক্টোবর – ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ঘনঘন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে সৌদি আরবের সুরক্ষায় এবার এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাজতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটিতে অবিলম্বে ‘র‍্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট’ বা দ্রুত সেনা মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। সম্প্রতি তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় এই সিদ্ধান্তের চরম বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রিয়াদে অনুষ্ঠিত তিন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের এক বিশেষ জরুরি বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

নজিরবিহীন ‘ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা অক্ষ’

গত আগস্ট মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব এক ছাতার নিচে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির অন্যতম মূল ভিত্তি হলো—মিত্র তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং অন্য দুই দেশ তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক সহায়তায় এগিয়ে আসবে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে এক পরাক্রমশালী সামরিক অক্ষ গড়ে উঠেছে। যেখানে সমবেত হয়েছে:

  • ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক পরাশক্তি: তুরস্ক
  • মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র: পাকিস্তান
  • উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র: সৌদি আরব

মক্কা-মদিনা লক্ষ্য করে হামলা ও যৌথ পদক্ষেপ

চলতি বছরের জুলাই থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেয়। এর পর থেকেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর, তেল অবকাঠামো ও লোহিত সাগরের বাণিজ্য জাহাজে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে থাকে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। গত সেপ্টেম্বরে হুতিদের এক বড় অভিযানের মুখে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী বেশ কিছু কৌশলগত এলাকা হারালে নিরাপত্তা শঙ্কা চরম রূপ নেয়।

সোমবারের বৈঠকে রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ সৌদি ভূখণ্ড, বিশেষ করে পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সাম্প্রতিক আক্রমণগুলোর তীব্র নিন্দা জানায়।

যদিও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি হুতিদের নাম উচ্চারণ করা হয়নি, তবে তিন পক্ষই স্পষ্ট জানিয়েছে—সৌদি আরবের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার ওপর কোনো আঘাত বরদাস্ত করা হবে না। এই প্রতিশ্রুতির আলোকেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পাকিস্তানি ও তুর্কি সৈন্য সৌদি আরবে মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে সৌদিতে পৌঁছানোর পর এই যৌথ বাহিনী ঠিক কীভাবে সরাসরি অভিযানে অংশ নেবে, তা নিরাপত্তা কৌশল হিসেবে গোপন রাখা হয়েছে।

ইয়েমেনে বৃহৎ পাল্টা হামলা

সৌদিতে বাহিনী নামানোর এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পাশাপাশি ইয়েমেনে হাতছাড়া হওয়া ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। রিয়াদের সরাসরি বিমান সহায়তায় সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে হুতিদের বেশ কিছু প্রধান ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে—যার মধ্যে এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে যা গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের একক নিয়ন্ত্রণে ছিল।

পবিত্র ভূমির প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তান ও তুরস্কের এই প্রকাশ্য সেনা মোতায়েন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও রাজনৈতিক সমীকরণকে রাতারাতি নতুন এক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিল।

এনএন/ ০৬ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language