মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক কৌশল ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন

তেহরান, ৩১ জুলাই – আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য এক নতুন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ দৈনিক হামশাহরি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী রাখতে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান মূলত তাদের স্পিডবোট বহরের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে এই দ্রুতগামী নৌকাগুলোকে ইরানি নৌবাহিনীর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ পরিচালনার মাধ্যমে এই বহরটি মার্কিন বাহিনীকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সামুদ্রিক মাইন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তির সমন্বয়ে তেহরান কার্যত এই জলপথটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

তবে সামরিক শক্তির এই প্রদর্শনের মধ্যেই ইরানে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ভিন্ন মত পরিলক্ষিত হচ্ছে। আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রথম প্রধান এবং সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন আলাই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাত অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের মধ্যেই ইরানের প্রকৃত বিজয় নিহিত। গত বছরের জুন মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ সাধারণ মানুষের জন্য কখনও মঙ্গলজনক হতে পারে না।

দেশটির কট্টরপন্থীরা আলোচনার পথ বন্ধ রাখার দাবি জানালেও আলাইয়ের মতো অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তারা এখন কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন। একই সময়ে বিদেশে অবস্থানরত ইরানিদের ওপর সরকারি চাপের অভিযোগ উঠেছে।

বিবিসি পার্সিয়ানের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেলারুশে অধ্যয়নরত ইরানি শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মিনস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার সহায়তায় সমালোচকদের ওপর নজরদারি ও নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বেলারুশ ছাড়াও আর্মেনিয়া থেকেও ইরানি নাগরিকদের ওপর একই ধরনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে গত ২ মার্চ কাতারে অবস্থিত মার্কিন আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে চালানো একটি হামলার বিস্তারিত তথ্য সম্প্রতি স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

উক্ত অভিযানে নিহত অন্যতম পাইলট হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিরাজ সামরিক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নকারী দুটি এসইউ টুয়েন্টিফোর বোমারু বিমান মিশন শেষে ফেরার পথে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়। এর আগে কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার তথ্য জানা গেলেও কাতারের এই সুনির্দিষ্ট অভিযানটির তথ্য এতদিন অপ্রকাশিত ছিল।

এস এম/ ৩১ জুলাই ২০২৬


Back to top button