সৌদি-ইসরায়েল ইস্যুতে ট্রাম্পের শর্ত: চীন ও পাকিস্তানের জন্য নতুন সুযোগের হাতছানি

বেইজিং, ২৫ জুলাই – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সাথে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিকে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তের সাথে যুক্ত করেছেন। তার এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে,
ওয়াশিংটনের এই অবস্থান বেইজিং এবং ইসলামাবাদের জন্য নতুন কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাকিস্তানের সাবেক ফ্রন্টিয়ার কর্পসের কমান্ডার ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারিক খান মনে করেন, ট্রাম্পের এই শর্তাধীন প্রস্তাব চীনকে সৌদি আরবের কাছে বিকল্প পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, বেইজিং কোনো রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই সৌদি আরব ও ইরান উভয় পক্ষকে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতার প্রস্তাব দিতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
তারিক খানের মতে,
যুক্তরাষ্ট্রের শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাবের বিপরীতে চীনের নিঃশর্ত সহযোগিতার প্রস্তাব তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করেন যে পাকিস্তানের জন্য এই কূটনৈতিক পথচলা সহজ হবে না।
ইসলামাবাদকে শেষ পর্যন্ত হয় চীন ও ইরানের পক্ষ নিতে হবে, অথবা সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়া পাকিস্তানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বনাম চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত রিয়াদ ও তেহরান কোন পথে হাঁটে, তাই এখন দেখার বিষয়। ট্রাম্পের এমন নীতি বেইজিংয়ের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার সুযোগ করে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এস এম/ ২৫ জুলাই ২০২৬









