এভারেস্ট অঞ্চলে বিষধর সাপের আনাগোনা, নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তন

বেইজিং, ১৪ জুলাই – জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন বিষাক্ত প্রজাতির সাপ। এতে পর্বতারোহী, পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের উষ্ণ সমতল থেকে বিষধর সাপগুলো এখন ধীরে ধীরে এভারেস্ট অঞ্চলের দিকে চলে আসছে। ফলে এভারেস্ট সংলগ্ন হাসপাতালগুলোতে সাপে কাটার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমালয় অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলছে এবং আবহাওয়া আগের তুলনায় উষ্ণ হয়ে উঠছে। ফলে সমতলের সরীসৃপ প্রাণীদের জন্য পাহাড়ি অঞ্চল নতুন আবাসস্থল হিসেবে গড়ে উঠছে।
এভারেস্ট এলাকার একটি হাসপাতালের চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজধানী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়।
নেপালের জাতীয় বিষবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সঞ্জীব কুমার শর্মা জানান, আগে যেসব সাপ কেবল সমতলে দেখা যেত, এখন সেগুলো উচ্চতর এলাকায় দেখা যাচ্ছে। গত বছর এভারেস্টের নিকটবর্তী এলাকা থেকে ১০টি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়।
এর মধ্যে ৯টিই ছিল রাজকীয় কিং কোবরা বা শঙ্খচূড়। ভবিষ্যতে হিমালয়ের আরও উঁচু এলাকায় বিষধর প্রাণীর আনাগোনা বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এস এম/ ১৪ জুলাই ২০২৬









