শিক্ষা

এইচএসসিতে ২০২৬ সালের বদলে ২০২৫ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা! পুরো কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বরখাস্ত

জামালপুর, ৪ জুলাই – এইচএসসি পরীক্ষায় চরম এক কেলেঙ্কারি ও নজিরবিহীন গাফিলতির ঘটনা ঘটেছে জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের পুরনো প্রশ্নপত্র! এই ঘটনা প্রকাশ্য আসার পর তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হলে সরাসরি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সব শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি (বরখাস্ত) দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আবু খায়ের মো. কামাল হাসান গণমাধ্যমকে এই কড়া প্রশাসনিক অ্যাকশনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে এইচএসসির বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলাকালীন এই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে। ওই কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের প্রায় ১০০ জন পরীক্ষার্থী। কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকেরা ভুলবশত ২০২৬ সালের নতুন প্রশ্নপত্রের বদলে ২০২৫ সালের পুরনো প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন এবং সেই প্রশ্নে পুরো পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শওকত আলম মীর বলেন, “শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা কলেজে এসেছেন। তাদের সাথে বৈঠক চলছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‘আমরা পাস করব নাকি ফেল?’: পরীক্ষার্থীদের চোখে জল

পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে নুসরাত জাহান নামে ওই কক্ষের এক ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী কান্নাভেজা কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সারাদেশের পরীক্ষার্থীরা যেখানে এক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিল, আমরা ১০০ জন পরীক্ষা দিলাম সম্পূর্ণ অন্য (পুরনো) একটা প্রশ্নপত্রে! এখন আমাদের পরীক্ষা কেমন হয়েছে, সেটা আর বড় বিষয় না। আমরা আদৌ পাস করব নাকি ফেল করব, তা নিয়েই চরম সন্দেহে আছি। পাস করলেও এ-প্লাস আসবে কি না, তা কে জানে? আমাদের জীবন নিয়ে শিক্ষকেরা কেন এমন ছিনিমিনি খেললেন?”

পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও মানসিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন ওই ১০০ জন পরীক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয় এবং কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন এই ভুলের কারণে নষ্ট না হয়।

এইচএসসির মতো একটি সংবেদনশীল পাবলিক পরীক্ষায় এমন মারাত্মক ভুল কীভাবে ট্রাঙ্ক বা লকার থেকে কক্ষে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এনএন/ ৪ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language