দুই বছর পর শুরু হলো ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা প্রদান: হিলি ও গেদে সীমান্তে খুশির আমেজ

কলকাতা, ২৯ জুন – দীর্ঘ দুই বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়েছে। গত রবিবার থেকে এই কার্যক্রম চালুর সংবাদে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত চেকপোস্টে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসায়ী ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের স্বজনেরা। একই ধরনের স্বস্তির আমেজ লক্ষ্য করা গেছে নদীয়া জেলার গেদে স্থল সীমান্তেও। একটা সময় প্রতিদিন কয়েক হাজার বাংলাদেশি পর্যটক ভারতে আসতেন।
কিন্তু গত দুই বছরে শুধু মেডিকেল ভিসা চালু থাকায় পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ কমে গিয়েছিল। এর ফলে হিলি ও গেদে উভয় সীমান্তের ব্যবসায়ীরা চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ব্যবসা মন্দার কারণে অনেককে বিকল্প আয়ের পথও বেছে নিতে হয়েছিল।
পুনরায় টুরিস্ট ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন পর্যটকদের যাতায়াত বাড়বে তেমনি সীমান্ত এলাকার ব্যবসা ও বাণিজ্যের গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। হিলি সীমান্তের ব্যবসায়ী অংশুমান সাহা জানান যে টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় ব্যবসার পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো হবে বলে তারা আশাবাদী।
আগে প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আটশ মানুষ যাতায়াত করলেও গত দুই বছরে তা কমে মাত্র দেড়শ থেকে দুশ জনে নেমেছিল। বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলা থেকে ভারতে চিকিৎসা নিতে আসা সাদিয়া নামের এক তরুণী তার অনুভূতির কথা জানান।
তিনি বলেন এটি অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ কারণ দীর্ঘ সময় পর পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় আগামীতে চিকিৎসার বাইরে ভ্রমণের উদ্দেশ্যেও তারা সহজে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মালিক দীনবন্ধু হালদার মনে করেন এই উদ্যোগের ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
স্থল বন্দরগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশিরা উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও আগের চেয়ে বেশি সুযোগ পাবেন। টুরিস্ট ভিসা চালুর পর অন্য সব ধরনের ভিসাও দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
এস এম/ ২৯ জুন ২০২৬









