ইউস্তাকিওর গোলে ইতিহাস গড়ল কানাডা: ট্র্যাজেডি জয় করে বিশ্বকাপের নায়ক এক লড়াকু ফুটবলার

অটোয়া, ২৯ জুন – হলিউডের শহর লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামে ফুটবলের এক শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী হলো বিশ্ব। ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তখন যোগ করা সময়ের অন্তিম মুহূর্ত। স্কোরবোর্ড তখনও গোলশূন্য সমতায়।
ঠিক সেই মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের বাইরে বল পান কানাডার মিডফিল্ডার স্টিফেন ইউস্তাকিও। দক্ষিণ আফ্রিকান গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতেই রচিত হয় নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় কানাডা।
২৯ বছর বয়সী ইউস্তাকিওর ক্যারিয়ারে এটি সম্ভবত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল। তবে এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক অপূরণীয় কষ্টের গল্প। লড়াকু এই মিডফিল্ডার জীবনের চরম ট্র্যাজেডিকে জয় করে আজ এই পর্যায়ে এসেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের এই স্মরণীয় মুহূর্তে যখন তিনি গোলের উল্লাস করছিলেন, তখন তাঁর হৃদয়ে হয়তো বাজছিল বাবা মাকে হারানোর সুর। ২০২৩ সালে ক্লাব ফুটবলে পোর্তোর হয়ে ম্যাচ খেলার সময় ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর মা এসমেরালদা।
ঠিক এক বছর পর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তাঁর বাবাও। ব্যক্তিগত জীবনের এই গভীর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করেছেন ইউস্তাকিও। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার সকল সাফল্য পরিবারের জন্য উৎসর্গকৃত।
আমার বাবা মা, প্রেমিকা, কন্যাসন্তান, ভাই এবং বন্ধুদের জন্য আমি সবকিছু করি। ইউস্তাকিওর বড় ভাই ও ইন্টার টরন্টো এফসির প্রধান কোচ মাউরো ইউস্তাকিও জানিয়েছেন, তাঁরা দুই ভাই শোককে শক্তিতে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের বাবা মা আমাদের উড়তে ডানা দিয়েছিলেন, এখন ওড়ার দায়িত্ব আমাদের।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে কানাডার হয়ে যাত্রা শুরু করা ইউস্তাকিও মাঝখানে পর্তুগালের হয়ে অনূর্ধ্ব ২১ দলে খেলেছিলেন। তবে ২০১৯ সালে তিনি পাকাপাকিভাবে কানাডার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। কাতার বিশ্বকাপ ও কনকাকাফ নেশনস লিগের অভিজ্ঞ এই খেলোয়াড় এদিন অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নেমেছিলেন।
নিয়মিত অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস চোটের কারণে বাইরে থাকায় তাঁর ওপর ছিল বাড়তি দায়িত্ব। কানাডার হয়ে নিজের ৬১তম ম্যাচে এসে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ গোলটি করলেন এই মিডফিল্ডার। ঐতিহাসিক এই জয় নিয়ে তিনি বলেন, গোলটি করার সময় আমার মনে হচ্ছিল পুরো দেশবাসী আমার সঙ্গে শক্তি জুগিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করার পর এখন শেষ ১৬ তে কানাডার প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর মধ্যকার জয়ী দল। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার লক্ষ্য নিয়ে এখন পরবর্তী লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছে সহ আয়োজক দেশটি।
এস এম/ ২৯ জুন ২০২৬









