টরন্টোতে আবৃত্তি কর্মশালা, উচ্চারণ ও কণ্ঠচর্চায় বাংলা সংস্কৃতির পাঠ

টরন্টো, ১৬ জুন – বাংলা ভাষার সৌন্দর্য শুধু শব্দে নয়, তার উচ্চারণে, স্বরে, ছন্দে এবং অনুভবের প্রকাশে। কবিতার পঙ্ক্তি যখন সঠিক বাচনভঙ্গি ও কণ্ঠস্বরের মাধুর্যে উচ্চারিত হয়, তখন তা কেবল পাঠ থাকে না, হয়ে ওঠে শিল্প। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে সেই শিল্পচর্চাকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলতেই টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হলো অন্যস্বর ও অন্যথিয়েটার আয়োজিত আবৃত্তি কর্মশালা ২০২৬।
গত ১৪ জুন, ২০২৬, রবিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টরন্টোর আলবার্ট ক্যাম্পবেল লাইব্রেরিতে অর্ধদিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল শুদ্ধ উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি, কণ্ঠস্বরের সঠিক ব্যবহার এবং কবিতার ভাবপ্রকাশের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করা।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টরন্টোর বিশিষ্ট সংগঠক, সংস্কৃতিকর্মী ও অন্যস্বরের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ হোসেন, বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী হাসি রহমান, জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী ও গবেষক হাসান মাহমুদ এবং বহুল পরিচিত সঙ্গীত পরিচালক জাহিদ হোসেন।
কর্মশালার শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের জোড়ায় ভাগ করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁরা একে অপরের পরিচয় জানেন এবং পরে তা অন্য অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপন করেন। এই অংশগ্রহণমূলক পর্ব কর্মশালার পরিবেশকে শুরু থেকেই প্রাণবন্ত করে তোলে।
পরবর্তী পর্বে প্রশিক্ষক ও অতিথি শিল্পীরা আবৃত্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় উঠে আসে স্বরের বিভিন্ন রূপ, কণ্ঠচর্চার অনুশীলনী, কবিতার অন্তর্নিহিত ভাব অনুধাবন ও তার প্রকাশ, আবৃত্তির জন্য উপযুক্ত কবিতা নির্বাচন, আবহ সঙ্গীতের ব্যবহার, ছন্দ, মাত্রা ও বিরতির সঠিক প্রয়োগ। পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যে নবরসের পরিচিতি ও তার প্রকাশ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষকরা বলেন, আবৃত্তি শুধু সুন্দর করে কবিতা পড়ার নাম নয়। একটি কবিতার ভেতরের ভাব, সময়, চরিত্র, ব্যথা, আনন্দ ও নন্দনবোধ কণ্ঠের মাধ্যমে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আবৃত্তির আসল শক্তি। এ জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, ভাষার প্রতি মমতা এবং শব্দের ভেতরের সুর বোঝার ক্ষমতা।
কর্মশালার শেষ পর্বে অন্যস্বর টরন্টোর অফিসিয়াল ওয়েবপেজ উদ্বোধন করা হয়। অতিথিদের ফুলের তোড়া প্রদানের মধ্য দিয়ে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপনী হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও আবৃত্তিচর্চাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে আবৃত্তি কর্মশালা ২০২৬ ছিল বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ, কণ্ঠশিল্প ও সাংস্কৃতিক অনুশীলনের এক আন্তরিক আয়োজন। প্রবাসের মাটিতে এ ধরনের কর্মশালা শুধু শিল্পচর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে না, বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসাকেও নতুন করে জাগিয়ে তোলে।









