উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক সই, জানালেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ১৬ জুন – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সোমবার ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর তিনি এই তথ্য জানান। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই চুক্তির বিস্তারিত জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীরা।

ফ্রান্সে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প বলেন, চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি ইতিমধ্যে আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামী শুক্রবার এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এভিয়ান-লে-বেঁ পর্যটন শহর থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে লেকপারের এই শহরে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

সমঝোতা স্মারকের নথি কবে প্রকাশ করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, খুব নিকট ভবিষ্যতে কোনো এক সময় এটি প্রকাশ করা হবে। সম্ভবত শুক্রবারের পর যে কোনো দিন এটি জনসমক্ষে আসতে পারে।

মার্কিন সিনেটের ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন চুক্তির সব তথ্য কংগ্রেসকে অবহিত করা হয়। এক বিবৃতিতে শুমার প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের এই সমঝোতা সম্পর্কে পূর্ণ স্বচ্ছতা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি আরও জানতে চান যে এই চুক্তির ফলে মার্কিন সেনারা ঝুঁকিমুক্ত থাকবে কি না এবং এই দীর্ঘ সংঘাত থেকে আসলে কী অর্জন সম্ভব হলো।

চুক্তিটি যখন স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে, তখনই সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনাটি চুক্তির নাজুক অবস্থাকেই তুলে ধরছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা শুরু করার পর এই প্রথম যুদ্ধ অবসানের প্রক্রিয়া শুরু হলো। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো এই আলোচনায় ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি ওয়াশিংটন।

ইরান আক্রান্ত হওয়ার পর গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলে হামলা শুরু করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর থেকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও রাজধানী বৈরুতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে লেবাননে হামলা বন্ধ করা এই সমঝোতার একটি অবিচ্ছেদ্য শর্ত। তবে ইসরায়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে আত্মরক্ষায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি মূলত একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি এবং ইরান যদি হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয় তবে ইসরায়েল পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে।

এনএন/ ১৬ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language