গাজায় শান্তি ফেরাতে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের ঐতিহাসিক চুক্তি, প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ৩১ জুলাই – গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনগুলো। এই চুক্তির আওতায় তারা অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এই সমঝোতাকে টেকসই শান্তির পথে একটি স্মরণীয় অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সংবাদমাধ্যম এর হাতে আসা চুক্তির অনুলিপি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক তদারকি পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অনুমোদনের ভিত্তিতে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণের একটি সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে হবে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে।
আলোচনার বিষয়ে হামাসের প্রতিনিধিদলের সদস্য গাজী হামাদ জানিয়েছেন, এই আলোচনা অত্যন্ত কঠিন ও জটিল ছিল। ফিলিস্তিনিদের জন্য সম্ভাব্য সেরা শর্ত নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল যদি চুক্তির শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়, তবে হামাসও চুক্তির কোনো অংশ বাস্তবায়ন করবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, অস্ত্র সংবরণের বিষয়টি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত উপত্যকাটির পুনর্নির্মাণ কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে। ট্রাম্প প্রশাসন এবং নবগঠিত বোর্ড অব পিস এই চুক্তিকে তাদের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গাজা একটি নতুন ফিলিস্তিনি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ইসরায়েলও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পাবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো অস্ত্রই ইসরায়েল বা কোনো অ-ফিলিস্তিনি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে না। কেবল একটি জাতীয় কমিটি এই অস্ত্রের একক রক্ষক হিসেবে কাজ করবে।
পরবর্তীতে পুলিশের কাছে থাকা সাধারণ অস্ত্র এবং ভারী অস্ত্রগুলো ধাপে ধাপে হস্তান্তর করা হবে। গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এই নতুন সমঝোতা হয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় কায়রোতে ফিলিস্তিনি নেতাদের এই আলোচনা চলছে এবং শীঘ্রই দ্বিতীয় পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এস এম/ ৩১ জুলাই ২০২৬









