বগুড়া

বগুড়া পুলিশ লাইন্স থেকে এএসআই আরিফুলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, নেপথ্যে কী কারণ?

বগুড়া, ২২ মে – বগুড়া জেলা পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। খোদ পুলিশ লাইন্সের ভেতর থেকেই জেলা পুলিশের বেতার শাখার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আরিফুল ইসলামের (৩৮) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

ডিউটি করা অবস্থায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা ধোঁয়াশা। এটি কি শুধুই আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো মানসিক চাপ বা কারণ?

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে যেকোনো এক সময়ে ঘটনাটি ঘটেছে। রাতের কোনো এক প্রহরে ডিউটি করা অবস্থায় এএসআই আরিফুল ইসলাম গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মির্জা সায়েম মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তার ঝুলন্ত মরদেহ নামানো হয়।

নিহত এএসআই মো. আরিফুল ইসলাম (বিপি নম্বর-৮৮০৭১২৭৪৮৫) নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পদ্মবিল ঘড়িয়া এলাকার মো. আশরাফের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী রোমা বেগম এবং দুটি ফুটফুটে সন্তান রেখে গেছেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) মো. আতোয়ার রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “ঘটনাস্থল থেকে এএসআই আরিফুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা আমরা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছি।”

পুলিশের অভ্যন্তরীণ কোনো চাপ, পারিবারিক কলহ নাকি অন্য কোনো মানসিক অবসাদ—কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্ত কর্মকর্তারা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ডিজিটাল এভিডেন্স খতিয়ে দেখার পরই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।

দিনরাত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ সদস্যদের ভেতরের মানসিক স্বাস্থ্য ও চাপ নিয়েও এই ঘটনা নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে সচেতন মহলকে। স্ত্রী ও দুই সন্তানের এই অপূরণীয় ক্ষতি আর এএসআই আরিফুলের এই করুণ পরিণতি যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহকর্মীরা।

এনএন/ ২২ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language