জাতীয়

শিশু রামিসা হত্যার প্রতিবাদে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর অবরোধ

ঢাকা, ২২ মে – রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) নির্মমভাবে ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় এবার রাজপথে নেমে এসেছে ক্ষুব্ধ জনতা। হত্যাকারী সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকা অবরোধ করে বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিক্ষোভের কারণে মিরপুরের অন্যতম প্রধান এই ট্রাফিক পয়েন্টে যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং চারপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ করেই শত শত মানুষ ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মিরপুর ১০ নম্বরের মূল সড়কে অবস্থান নেন। তারা শিশু রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ওসি বলেন, “স্থানীয় জনতা শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে আসামিদের বিচারের দাবিতে সড়কের একপাশে অবস্থান নিয়ে আছেন। আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছি এবং সড়কের একপাশ দিয়ে এক লেনে গাড়িগুলো পাস করিয়ে দিচ্ছি। যানবাহন চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।”

নিহত রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার নিজ বাসার পাশ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় সে। পরিবার হন্যে হয়ে খোঁজার পর প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই বুকফাটা ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে গা শিউরে ওঠার মতো ভয়ঙ্কর তথ্য

প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পাশবিক ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া ঘাতক সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে সে আদালতে নিজের পৈশাচিক অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

এই লোমহর্ষক অপরাধে সহায়তার অভিযোগে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং নিহত রামিসার প্রতিবেশীদের চোখে-মুখে ছিল তীব্র ক্ষোভ আর অশ্রু। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট কথা— কেবল গ্রেপ্তার বা স্বীকারোক্তি নয়, অতি দ্রুততম সময়ে এই নরপশুর প্রকাশ্য ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।

ধর্ষক ও খুনি সোহেল রানার এই বর্বরতা পুরো ঢাকাবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বরের এই অবরোধ কেবল একটি বিক্ষোভ নয়, এটি সমাজের প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক জোরালো আর্তনাদ।

এনএন/ ২২ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language