জাতীয়

সিমিন রহমানের মামলা থেকে অব্যাহতি নিয়ে বিতর্ক: আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ

ঢাকা, ২২ মে – সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের হস্তক্ষেপে ট্রান্সকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমান ভাই হত্যাসহ সব মামলা থেকে রেহাই পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ছোট বোন শাযরেহ্ হকের দায়ের করা মামলায় পিবিআই অভিযোগপত্র দাখিল করলেও সিমিনসহ সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে যে আসিফ নজরুলের ইশারায় মামলার গতিপথ বদলে গিয়েছে এবং তিনি অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এই বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন। এসব কাজে ট্রান্সকম গ্রুপের দুই পত্রিকা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মতিউর রহমান ও মাহফুজ আনাম মধ্যস্থতা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাদী শাযরেহ্ হক অভিযোগ করেছেন যে প্রভাবশালী তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কারণেই বাদীপক্ষকে শুনানি করতে না দিয়ে মামলা খারিজ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। ট্রান্সকমের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর তার পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

লতিফুর রহমানের বড় মেয়ে সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতি এবং সম্পত্তি দখলের অভিযোগ এনে মামলা করেন ছোট বোন শাযরেহ্ হক। তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই অভিযোগপত্র দিলেও আদালত সবাইকে অব্যাহতি দেন।

এদিকে সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে গত বছর নভেম্বরেই এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে যে মামলা ধামাচাপা দিতেই সিমিন রহমান এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন। জালিয়াতি ও আত্মসাতের এই পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত ২০২০ সালে লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর শুরু হয় এবং ২০২৩ সালে তা ধরা পড়ে।

রাজউকের নথিপত্রেও লতিফুর রহমান ও শাযরেহ্ হকের স্বাক্ষর জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। শাযরেহ্ হক বিচার বিভাগীয় এই অব্যাহতির বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

এস এম/ ২২ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language