জাতীয়

পল্লবীতে স্কুলছাত্রী রামিসা হত্যা: স্বামী জাকিরকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন স্ত্রী

ঢাকা, ২০ মে – রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তার স্ত্রী স্বপ্না। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাকির বিকৃত মানসিকতার অধিকারী এবং ইতিপূর্বেও বিভিন্ন সময় নিজ স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন।

মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি বাসার খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্নাকে আটক করা গেলেও জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান জাকির। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায় যে তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি বিকাশের দোকানে টাকা তুলতে গিয়েছেন। এরপর স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাকির পেশায় একজন রিকশা মেকানিক এবং তার বিরুদ্ধে নাটোর জেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাও রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি বিকৃত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং আলামত গোপন করতে দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে রামিসার পরিবার দীর্ঘ সময় ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। ঘটনার দিন সকালে রামিসার মা অভিযুক্তদের দরজার সামনে তার মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান।

পুলিশের দাবি, রামিসার মা যখন দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, তখন ভেতরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছিল। জাকির যাতে পালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য তার স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘ সময় দরজা খোলেননি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে এবং পল্লবী থানায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এনএন/ ২০ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language