উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে বন্দুকধারীদের ভয়াবহ হামলা, ৩ মুসল্লি নিহত

ওয়াশিংটন, ১৯ মে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান দিয়াগো শহরের একটি মসজিদে বন্দুকধারীদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়াগো’ (আইসিএসডি) নামক ওই মসজিদে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো আমেরিকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় বইছে।

হামলার পর পুলিশের অভিযানে দুই বন্দুকধারীকেও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তারা নিজেরা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

সান দিয়াগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াহল সাংবাদিকদের জানান, নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ওই ইসলামিক সেন্টারের নিরাপত্তাকর্মী। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে হামলাকারীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণেই আরও বড় ধরনের গণহত্যা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত দুই হামলাকারীর বয়স আনুমানিক ১৭ ও ১৯ বছর। তবে ঠিক কী কারণে তারা এই বর্বর হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটিকে ‘হেট ক্রাইম’ বা মুসলিমবিদ্বেষী হামলা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার পর তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মসজিদের ইমাম তাহা হাসানে। তিনি বলেন, “আইসিএসডি এমন একটি পবিত্র স্থান যেখানে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবাই একত্রিত হয়ে প্রার্থনা ও শিক্ষা গ্রহণ করে। এখানে এমন কাপুরুষোচিত হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”

সান দিয়াগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এই শহরে কোনো ধরনের বর্ণবাদ বা বিদ্বেষের স্থান নেই। আমি মুসলিম সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে চাই, আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন আমরা সবই করবো।”

হামলার ঘটনা জানার পর এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (FBI) ইতিমধ্যেই স্থানীয় পুলিশের সাথে মিলে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।

এই হামলার পরপরই নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD) সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পুরো নিউইয়র্ক শহরের সব বড় বড় মসজিদে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

কংগ্রেসওম্যান সারা জ্যাকবস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমা বিশ্বে ক্রমাগত বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষের কারণেই এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এনএন/ ১৯ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language