ট্রাম্পের কড়া হুশিয়ারি উপেক্ষা করে নিজেদের ‘স্বাধীন’ দাবি তাইওয়ানের!

তাইপে, ১৭ মে – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ও বারণ সত্ত্বেও নিজেদের ‘স্বাধীন-সার্বভৌম’ রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ান। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দুই দিনের হাই-ভোল্টেজ শীর্ষ বৈঠক শেষেই তাইওয়ান ইস্যুতে এই নতুন উত্তেজনা শুরু হলো। বৈঠক শেষে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে তিনি ‘কোনো পক্ষকেই কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি’।
এদিকে চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডের অংশ এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও তারা এই দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ডের সাথে একীভূত করবে।
বেইজিং সফর শেষে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বলেন, “আমি কাউকে নতুন করে স্বাধীন হতে দেখার চেষ্টা করছি না। আপনি জানেন, যুদ্ধ করতে হলে আমাদের প্রায় ১৫ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার (৯ হাজার ৫০০ মাইল) পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি সেটা মোটেও চাই না। আমি চাই তারা শান্ত হোক এবং চীনও শান্ত থাকুক।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই শনিবার (১৬ মে) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাইওয়ান। দেশটির প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ক্যারেন কুও সরাসরি বলেন, “তাইওয়ান যে একটি সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ—এটি ‘স্বতঃসিদ্ধ’। এর জন্য নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।”
তবে আন্তর্জাতিক চাপ ও যুদ্ধ এড়াতে তাইওয়ান চীনের সাথে বর্তমান অবস্থান বা ‘স্ট্যাটাস কো’ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। অর্থাৎ, তারা আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতাও ঘোষণা করবে না, আবার চীনের সাথে একীভূতও হবে না।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও একটি বড় বোমা ফাটিয়েছেন। তিনি জানান, তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন বা ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এক বিশাল অস্ত্র প্যাকেজ বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন।
তবে কূটনীতির প্রথা ভেঙে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই অস্ত্র চুক্তি নিয়ে তিনি সরাসরি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সাথে কথা বলতে পারেন। সাধারণত বেইজিংকে ক্ষুব্ধ না করতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা তাইওয়ানের নেতাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন না। ট্রাম্পের এই মন্তব্য বেইজিংয়ের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে নিজের ‘খুবই দৃঢ় অবস্থান’ ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেছেন। বেইজিংয়ের চোখে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে একজন ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ এবং ‘দুই তীরের শান্তি ধ্বংসকারী’। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের চারপাশে বেইজিং তাদের সামরিক মহড়া বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার অস্ত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, কূটনৈতিকভাবে ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের ‘এক চীন নীতি’ (One China Policy) মেনে চলে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে বেইজিংয়ের সাথে কোনো সংঘাতে জড়াতে চান না তিনি।
তবে তাইওয়ানের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “শক্তির মাধ্যমে শান্তি (Peace through strength) নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা আরও গভীর করবে তাইওয়ান।” এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই বিপুল অংকের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত এবং তাইওয়ানের অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পর এশিয়া মহাদেশেও নতুন কোনো যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দেয় কি না।
এনএন/ ১৭ মে ২০২৬









