ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে আজ শুরু হচ্ছে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক

ঢাকা, ১৭ মে – জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত ন্যাক্কারজনক মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের মামলায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে চূড়ান্ত আইনি লড়াই। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আজ রোববার (১৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক (Arguments) উপস্থাপন শুরু হবে। দেশ কাঁপানো এই মামলার দিকে এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে পুরো দেশের মানুষ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে আজ এই যুক্তিতর্ক শুরু হবে।
নিয়ম অনুযায়ী:
- প্রথম পর্ব: প্রথমে প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য-প্রমাণ ও আইনি পয়েন্টগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরবেন।
- দ্বিতীয় পর্ব: এরপর আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা প্রসিকিউশনের যুক্তি খণ্ডন করে তাদের বক্তব্য পেশ করবেন।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি এই সাত আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়েছিল।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন:
১. আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম (আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)
২. মোহাম্মদ আলী আরাফাত (সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী)
৩. শেখ ফজলে শামস পরশ (যুবলীগ সভাপতি)
৪. মাইনুল হোসেন খান নিখিল (যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক)
৫. সাদ্দাম হোসেন (ছাত্রলীগ সভাপতি)
৬. ওয়ালি আসিফ ইনান (ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক)
প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে (Formal Charge) বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলন দমনে এই আসামিরা সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো হলো:
উসকানিমূলক বক্তব্য: আন্দোলনকারীদের দমনে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি অনবরত নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
সশস্ত্র হামলা ও সহিংসতা: দলীয় ক্যাডারদের রাজপথে নামিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা, সহিংসতা ও কঠোর দমন-পীড়নের ব্লুপ্রিন্ট বা পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন।
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ: তৎকালীন সময়ে সত্য ধামাচাপা দিতে গণমাধ্যম ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে ওবায়দুল কাদের ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরাফাত সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন।
এসব পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ফলেই দেশজুড়ে নির্মম হত্যাকাণ্ড, হাজারো মানুষকে হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন অনুযায়ী “মানবতাবিরোধী অপরাধ” হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড: এর আগে গত ২৭ এপ্রিল এই মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। ২৬তম তথা শেষ সাক্ষী হিসেবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। দীর্ঘ সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আদালত আজ ১৭ মে যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন।
আইনজীবীদের মতে, যুক্তিতর্ক পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই বহুল প্রতীক্ষিত এই মামলার চূড়ান্ত রায়ের (Verdict) তারিখ ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এনএন/ ১৭ মে ২০২৬









