মিরপুর মাজারের ওরশে হামলা! জামায়াতের ১০০-১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৩ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা, ১৭ মে – রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী বোগদাদীর (র.) মাজারে বার্ষিক ওরশ চলাকালীন অতর্কিত হামলার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৯ জনের নাম উল্লেখসহ জামায়াতে ইসলামীর অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০০ থেকে ১৫০ জন নেতাকর্মীকে আসামি করে এই মামলা করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় শাহ আলী থানায় রেশমি বেগম নামে মাজারের এক ভুক্তভোগী নারী ভক্ত বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
এদিকে, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যেই ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশি অভিযানে আরমান, রাসেল ও আজম নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি বলেন, “হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ৯ জনের মধ্যে রাসেল ও আজম নামে দুজন রয়েছে। তবে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
১৭ বছর ধরে এই মাজারে নিয়মিত যিয়ারত করতে আসা রেশমি বেগমের করা মামলার এজাহারে মো. আলী আকবর, মো. বাপ্পা, মো. বাবুসহ ৯ জনের নাম স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের মূল অভিযোগগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- অতর্কিত হামলা: গত বৃহস্পতিবার রাতে মাজারের ওরশে যিয়ারত ও মানতের সময় হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করে।
- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত: হামলাকারীরা মাজারের ঐতিহ্যবাহী সিন্নি গাছের গোড়ার লাল কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং মোমবাতি জ্বালানোর প্লেট ভাঙচুর করে, যা চরমভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
- নারীর ওপর যৌন নির্যাতন: হামলার প্রতিবাদ করতে গেলে বাদী রেশমি বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং তার কাপড়চোপড় টেনে হেনস্তা বা যৌন নির্যাতন করা হয়।
- লুটপাট ও ভাঙচুর: মানতের খিচুড়ি রান্নার চুলা ও পাতিল ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়। এছাড়া বাদীর নগদ ৬ হাজার টাকাসহ যিয়ারতকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার শিকার জিয়াতকারীরা শুরু থেকেই দাবি করছেন হামলাকারীরা ‘জামায়াত-শিবিরের’ লোক। তবে জামায়াতে ইসলামী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে এবং ঘটনার সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
শাহ আলী মাজারে হামলার এই ঘটনাকে দেশের বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া ‘সহিংসতার ধারাবাহিকতা’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
বর্তমানে মাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা প্রশাসন।
এনএন/ ১৭ মে ২০২৬









