প্রবাসী কার্ড নিয়ে বড় ঘোষণা: জেনে নিন কারা পাবেন এই বিশেষ সুবিধা

ঢাকা, ১৫ মে – দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডের পর এবার আসছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’। আগামী দুই মাসের মধ্যেই প্রবাসীদের হাতে এই স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, আগে থেকেই তো বিএমইটি (BMET) কার্ড রয়েছে, তবে নতুন কার্ডের কী প্রয়োজন? মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিএমইটি কার্ড মূলত নিবন্ধিত শ্রমিকের তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। কিন্তু নতুন ‘প্রবাসী কার্ড’ হবে তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও মাল্টি-ফাংশনাল।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর এই কার্ডের বিশেষ কিছু ফিচারের কথা জানিয়েছেন যা প্রবাসীদের জীবন সহজ করবে:
পাসপোর্টের বিকল্প: পরিচয় প্রমাণের ক্ষেত্রে এই কার্ড পাসপোর্টের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
স্মার্ট কিউআর কোড: কার্ডে একটি কিউআর কোড থাকবে, যা স্ক্যান করলেই প্রবাসীর যাবতীয় তথ্য নিমিষেই চলে আসবে।
মোবাইল অ্যাপ সুবিধা: শারীরিক কার্ডের পাশাপাশি এটি মোবাইলেও ব্যবহার করা যাবে, অর্থাৎ কার্ড হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
ব্যাংকিং সুবিধা: এই কার্ডের সাথে নতুন করে ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে, যা প্রবাসীদের ব্যাংকিং জটিলতা কমাবে।
প্রাথমিকভাবে যারা বৈধভাবে বিদেশে কর্মরত এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (BMET) অধীনে নিবন্ধিত, তারাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড পাবেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠান, তাদের জন্য এই কার্ড হবে এক ধরণের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
বিদেশের মাটিতে কোনো বিপদে পড়লে বা সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হলে এই কার্ডটি হবে প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এর মাধ্যমে সরকারি তথ্যভাণ্ডারে দ্রুত প্রবেশ করে তৎক্ষণাৎ সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে। এছাড়া বিমানবন্দরে ভিআইপি প্রটোকল বা বিশেষ সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনএন/ ১৫ মে ২০২৬









