উত্তর আমেরিকা

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প কি চীনের শি জিনপিংকে পাশে পাবেন?

ওয়াশিংটন, ১৪ মে – বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি চীনা নেতা শি জিনপিংকে রাজি করাতে পারবেন যাতে তিনি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে প্রভাব খাটান। বিশেষ করে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত নিরসনে চীনের ভূমিকা এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বেইজিং নিজেকে বিশ্বশান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আগ্রহী এবং সেই লক্ষ্যে তাদের অবস্থানও বেশ শক্তিশালী। এর আগে ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে বেইজিং সফল মধ্যস্থতা করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। ইরানের ওপর চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব অনস্বীকার্য।

বর্তমানে ইরানের উৎপাদিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশেরই ক্রেতা চীন যা তেহরানের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। ফলে বেইজিংয়ের হাতে ইরানকে প্রভাবিত করার মতো যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেইজিং সফর করেছেন যা তেহরানের সাথে চীনের নিবিড় যোগাযোগের প্রমাণ দেয়।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সাথেও চীনের সুসম্পর্ক রয়েছে যারা পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছিল। নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থেই চীন এই যুদ্ধের অবসান চায় কারণ রফতানি নির্ভর চীনা অর্থনীতি বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে মন্দার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন ট্রাম্পের যেকোনো অনুরোধের ক্ষেত্রে শি জিনপিং অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নেবেন।

চীন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প বিশ্বনেতা হিসেবে তুলে ধরতে চায় তাই ওয়াশিংটনের আজ্ঞাবহ হয়ে কোনো কাজ করা তাদের কৌশলের পরিপন্থী হতে পারে। বিশেষ করে এমন কোনো চুক্তিতে বেইজিং সমর্থন দেবে না যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক আধিপত্যকে আরও শক্তিশালী করে।

ব্রিকস জোটের মতো আন্তর্জাতিক ফোরামে ইরান চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। এমতাবস্থায় শি জিনপিং হয়তো হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার মতো বিষয়ে সুর মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবেন কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রশ্নে নিজের অবস্থান থেকে খুব একটা সরবেন না। ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের ফলাফলই বলে দেবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে বেইজিং শেষ পর্যন্ত কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

এস এম/ ১৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language