ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে খাদ্যের দামে তিন বছরের রেকর্ড

তেহরান, ৯ মে – ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে উদ্ভিজ্জ তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় টানা তিন মাস ধরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা এফএও শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো জানান যে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্ভিজ্জ তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এর ফলে বায়োফুয়েল বা জৈব জ্বালানি তৈরির চাহিদা বেড়েছে।
সয়াবিন ও পাম অয়েলের মতো তেলসমৃদ্ধ উদ্ভিদের ব্যবহার এই শিল্পে বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ ভোজ্যতেলের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে সংঘাতের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা বিঘ্নিত হলেও সামগ্রিক কৃষি খাদ্য ব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট স্থিতিশীল আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পর্যাপ্ত মজুত থাকার কারণে গমের মতো শস্যের দাম খুব বেশি বাড়েনি। এপ্রিল মাসে এফএও ফুড প্রাইস ইনডেক্স বা মূল্য সূচক গড়ে ১৩০ দশমিক ৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এটি গত মার্চ মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
উল্লেখ্য যে ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনাকালে ২০২২ সালের মার্চে এই সূচক ১৬০ দশমিক ২ পয়েন্টে উঠেছিল। এপ্রিল মাসে ভোজ্যতেলের মূল্য সূচক ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূলত সূর্যমুখী এবং রেপসিড তেলের দাম বাড়ার কারণে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে মাংসের দাম এপ্রিলে ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে যার মূল কারণ ব্রাজিলে গবাদি পশুর সংকট। তবে ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডে পর্যাপ্ত সরবরাহের পূর্বাভাসের পর চিনির দাম প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি ২০২৫ সালের জন্য বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৩০৪ কোটি মেট্রিক টন নির্ধারণ করেছে যা গত বছরের তুলনায় বেশি। তবে সারের আকাশচুম্বী দামের কারণে ২০২৬ সালে গম চাষ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনএন/ ৯ মে ২০২৬









