শিক্ষা

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়তে উন্নত শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষা মন্ত্রী মিলন

ঢাকা, ৭ মে – ভবিষ্যৎ উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত ‘ব্রিং লার্নিং টু লাইফ: ইনোভেশন ইন টেকনিক, লার্নিং অ্যান্ড স্টুডেন্ট এনগেজমেন্ট’ শীর্ষক এক গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার পেছনে অভিভাবকদের ত্যাগ ও বিনিয়োগের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আয়ের সিংহভাগ ব্যয় করছেন। সরকারও তাদের এই প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।”

সরকার বিশ্বাস করে, কেবল ইটের ওপর ইট গেঁথে দালান তৈরি করলেই দেশ উন্নত হয় না, বরং দক্ষ জনশক্তিই একটি উন্নত জাতির আসল ভিত্তি।

শিক্ষাকে কেবল মুখস্থনির্ভর না রেখে একে শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করতে সরকার ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা ‘আনন্দে শিক্ষা’ নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঠদান পদ্ধতিকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতেও বাজেট বাড়ানো হয়েছে।

সরকারের এই লক্ষ্যগুলো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ড. মিলন। তিনি বলেন, “বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো উপযুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিটি কর্মচারীকে দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।” কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের সম্ভাবনা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইউনিসেফের ‘চিফ অব এডুকেশন’ দীপা শঙ্কর। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ও আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এনএন/ ৭ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language