যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি বিকল্প: কূটনীতি অথবা যুদ্ধ, হুঁশিয়ারি ইরানের

তেহরান, ৩ মে – যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো নয় দফার প্রস্তাবের জবাবে তেহরান ১৪ দফার একটি পাল্টা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি শনিবার বলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বর্তমানে দুটি বিকল্প খোলা রয়েছে।
তিনি জানান যে বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং তাদেরই ঠিক করতে হবে তারা কূটনীতির পথ বেছে নেবে নাকি সংঘাত চালিয়ে যাবে। গারিবাবাদি আরও বলেন যে ইরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে তেহরান সব ধরনের পরিণতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এই বক্তব্য সম্প্রচার করেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ইরানের প্রস্তাবে বিতর্কিত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মার্কিন অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করার সদিচ্ছাও প্রকাশ করেছে তেহরান। ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাব নিয়ে আগে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও শনিবার জানান যে তিনি এখনও প্রস্তাবটির লিখিত সংস্করণ পাননি। তবে তিনি মনে করেন না যে ইরান কোনো গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিতে সক্ষম।
ট্রাম্প পুনরায় হামলার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন যে তেহরান দুর্ব্যবহার করলে সংঘাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে আক্রমণ চালিয়েছিল। মার্কিন আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান চালানোর সীমাবদ্ধতা থাকলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন তিনি চাইলে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।
তবে বর্তমানে মানবিক কারণে তিনি তা করছেন না বলে দাবি করেছেন। ট্রাম্প আরও জানান যে তিনি ইরানের সাথে এমন কোনো নমনীয় সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নন যা অদূর ভবিষ্যতে পুনরায় সংঘাতের কারণ হতে পারে।
এস এম/ ৩ মে ২০২৬









