হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন বিধিনিষেধ, উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা

তেহরান, ০২ মে – কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও আরব সাগর এলাকায় নতুন নিরাপত্তা ও চলাচল বিধিনিষেধ জারি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অস্ত্র বা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম বহনকারী কোনো জাহাজ এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।
শনিবার (২ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
তেহরানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এর গবেষক আলি আকবার দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, এই নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের বার্তা দেওয়া হয়েছে। তার মতে, “এখন থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোই নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে, এখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত “তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তা” নীতিকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে, যেখানে অতীতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ইরান দাবি করছে, এই ব্যবস্থায় তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে।
এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে নৌ-অবরোধের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অভিযানের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং জাহাজ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেল ও কার্গো আটক করছে—যা তিনি “লাভজনক অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্প নিজেই এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনামূলক ভাষা ব্যবহার করে বলেন, “আমরা এক ধরনের জলদস্যুর মতো কাজ করছি,” যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এরপর থেকেই এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিধিনিষেধ এবং পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চাপ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনএন/ ০২ মে ২০২৬









