লেবানন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন বিপ্লব, ইসরায়েলি ট্যাংকের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

বৈরুত, ০২ মে – গাজা যুদ্ধের পর এবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ভারী সাঁজোয়া যান ও ট্যাংকনির্ভর কৌশল থেকে সরে না আসায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননের যুদ্ধে নতুন ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবার যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ছোট আকারের ফার্স্ট পার্সন ভিউ (FPV) সুইসাইড ড্রোন, যা খুব কম খরচে তৈরি হলেও মারাত্মক ধ্বংসক্ষমতা রাখে।
এই ড্রোনগুলো মূলত ছোট কোয়াডকপ্টার, যার সামনে ক্যামেরা লাগানো থাকে এবং অপারেটর রিয়েল-টাইম ভিডিও দেখে গগলসের মাধ্যমে সেটি নিয়ন্ত্রণ করেন। লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে ড্রোনটি বিস্ফোরিত হয়, ফলে এটিকে ‘কামিকাজে ড্রোন’ হিসেবেও উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ড্রোনের দাম মাত্র কয়েকশ থেকে এক হাজার ডলারের মধ্যে, যা প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র বা আর্টিলারির তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল হলেও কার্যকারিতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান, ট্যাংক এবং যানবাহনের ওপর একাধিক ড্রোন হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। তারা বলছে, এসব হামলা ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারী ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ব্যবহারের কৌশল গাজার মতো লেবাননে ততটা কার্যকর হচ্ছে না। বিশেষ করে গেরিলা ধাঁচের যুদ্ধ এবং পাহাড়ি ভূখণ্ডে ড্রোন হামলা ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে।
একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এসব ড্রোন ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের প্রভাব এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে। এতে করে ১০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে হামলা চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের কয়েকটি গণমাধ্যমও স্বীকার করেছে যে, বহু বছর ধরে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুললেও কম খরচের এই ধরনের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় তারা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, কয়েক হাজার ডলারের ড্রোন দিয়ে কোটি ডলারের ট্যাংক বা সামরিক যান ধ্বংস হওয়ার ঘটনা নতুন ধরনের অসম যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করছে। এতে ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে মানসিক চাপও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হচ্ছে, যা যুদ্ধের প্রকৃত চিত্রকে আরও জটিল করে তুলছে। দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাত যে দ্রুত থামছে না, বরং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
এনএন/ ০২ মে ২০২৬









