মধ্যপ্রাচ্য

ইরানকে ‘টোল’ দিলেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি জাহাজ কোম্পানিগুলোকে

তেহরান, ৩ মে – হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে ইরানকে মাসুল বা ‘টোল’ প্রদান করলে জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলোকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (ওএফএসি) এক সতর্কবার্তায় স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইরান সরকারকে অর্থ দেওয়া সাধারণত নিষিদ্ধ। তবে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিও যদি ইরানকে এই মাসুল প্রদান করে, তবে তারাও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বে।

ওএফএসি জানিয়েছে যে ইরানি বন্দরগুলোতে জাহাজ নোঙর করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নৌ-পরিবহন খাতের অংশীজনরা বর্তমানে একাধিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইরান।

এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান এই অবরোধকে জলদস্যুতা হিসেবে আখ্যায়িত করলেও তেহরান দাবি করেছে যে জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে তারা এই টোল আদায় করছে।

ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদেজা হাজি বাবাবেই সম্প্রতি দাবি করেছেন যে টোল থেকে সংগৃহীত আয়ের প্রথম অংশ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে টোলের পরিমাণ বা কারা এই অর্থ দিয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ওএফএসি আরও জানিয়েছে যে টোল বা মাসুল আদায়ের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ ছাড়াও ডিজিটাল সম্পদ বা অনানুষ্ঠানিক সোয়াপ ব্যবহার করা হতে পারে। এমনকি ইরানি দূতাবাসে দেওয়া দান বা অন্য কোনো উপায়ে দেওয়া অর্থও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান যে ইরান সরকারের অর্থ উপার্জন ও তা স্থানান্তরের সক্ষমতা নষ্ট করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যারা তেহরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করছে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে যে অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৫টি পণ্যবাহী জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। তেল, খাদ্য ও ওষুধ পরিবহনের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

এস এম/ ৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language