যূক্তরাষ্ট্র

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় নতুন খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার

ওয়াশিংটন, ২৭ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে আরেকটি খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এই দেহাংশটি নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির কি না তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। রবিবার বিকেলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় যে পিনেলাস কাউন্টির একটি জলাশয় থেকে এই দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। হিলসবরো ও পিনেলাস কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে এই দেহাবশেষটি পাওয়া যায়।

বর্তমানে উদ্ধারকৃত অংশটি পিনেলাস কাউন্টি মেডিক্যাল এক্সামিনারের দপ্তরে রাখা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি নিখোঁজদের তালিকার সঙ্গেও এটি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে গত ১৬ এপ্রিল ফ্লোরিডার টাম্পায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। তারা দুজনেই ২৭ বছর বয়সী ডক্টরাল শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান এবং বৃষ্টি রাসায়নিক প্রকৌশল বিষয়ে গবেষণা করছিলেন। ২১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিখোঁজের তথ্য প্রকাশ করে।

নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর বৃষ্টির সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিল। এরই মধ্যে বৃষ্টির ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর কথা জানালেও আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ শনাক্ত হওয়ার অপেক্ষা করছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে বৃষ্টির মরদেহও লিমনের মতো সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। সাবেক এফবিআই এজেন্ট ও ইউএসএফ সেন্টার ফর জাস্টিস রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির সহ পরিচালক ডা. ব্রায়ানা ফক্স জানান যে এই ঘটনাটি কোনো পরিকল্পিত অপরাধ নয় বরং তাৎক্ষণিক কোনো বিরোধ বা রাগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বয়সের মিল এবং পূর্বপরিচিত হওয়ার কারণে সামান্য কোনো ঝগড়া এমন সহিংস রূপ নিতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

এস এম/ ২৭ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language