যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা: যে ৫টি শর্তে আটকে আছে চূড়ান্ত সমঝোতা

তেহরান, ২৬ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর বর্তমানে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ টানা ৩৯ দিন চলার পর ৮ এপ্রিল থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করেন। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও ৫টি মৌলিক শর্তের কারণে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে না দুই পক্ষ। আলোচনার প্রথম প্রধান বাধা হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।
যুক্তরাষ্ট্র চায় তেহরান তাদের এই কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করুক। তবে ইরান শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এর ওপর বিধিনিষেধ মেনে নিতে রাজি হলেও স্থায়ীভাবে তা বন্ধ করতে নারাজ। দ্বিতীয়ত ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজি উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প যা তেহরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তৃতীয়ত হরমুজ প্রণালী ও বন্দরের ওপর অবরোধ নিয়ে সংকট বিদ্যমান।
ইরান জানিয়েছে তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ বজায় রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তির আগে এই অবরোধ তুলতে আগ্রহী নয়। চতুর্থত বিদেশে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে যা একটি স্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সবশেষে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইরান ২৭ হাজার কোটি ডলার দাবি করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে প্রদান করতে হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এস এম/ ২৬ এপ্রিল ২০২৬









