ইউরোপে ফরাসি পারমাণবিক বোমারু বিমান মোতায়েনের পরিকল্পনা, রাশিয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি

মস্কো, ২৪ এপ্রিল – ইউরোপে ফ্রান্সের পারমাণবিক সক্ষম বোমারু বিমান মোতায়েনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, কোনো ইউরোপীয় দেশ যদি ফরাসি পারমাণবিক সরঞ্জামবাহী কৌশলগত বিমান নিজেদের ভূখণ্ডে মোতায়েনের অনুমতি দেয়, তবে যুদ্ধের সময় তারা রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁন গত মার্চ মাসে দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রয়োজন দেখা দিলে ইউরোপীয় অংশীদার দেশগুলো সাময়িকভাবে ফ্রান্সের পারমাণবিক সক্ষম বিমান মোতায়েনের সুযোগ নিতে পারবে। এই উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ন্যাটোর পারমাণবিক শক্তির অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির বহিঃপ্রকাশ। তিনি একে রাশিয়ার জন্য একটি গুরুতর কৌশলগত হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন। গ্রুশকো আরও সতর্ক করে বলেন যে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হবে।
জানা গেছে, এই বিষয়ে ইতিমধ্যে ব্রিটেন, জার্মানি, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, গ্রিস, সুইডেন এবং ডেনমার্কের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ফ্রান্স। তবে গ্রুশকোর দাবি, মিত্রদের নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হলেও বাস্তবে এটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে। কারণ হিসেবে তিনি কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অভাবের কথা উল্লেখ করেন। মূলত ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে চাইছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো বিষয়ক সমালোচনা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক হুমকির প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বৈশ্বিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এক ধরনের শূন্যতা কাজ করছে। এছাড়া ইউক্রেন ও ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।
এস এম/ ২৪ এপ্রিল ২০২৬









