পলকের নির্দেশেই জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়: ট্রাইব্যুনালে বিটিআরসি কর্মকর্তা

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল – জুলাই ও আগস্ট মাসের গণআন্দোলনের সময় সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মৌখিক নির্দেশেই দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক সাক্ষীর জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই সাক্ষ্য প্রদান করেন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে ওই কর্মকর্তা তার জবানবন্দি পেশ করেন।
নিরাপত্তার খাতিরে আদালতে তার নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ অন্যান্যরা আসামি হিসেবে রয়েছেন।
সাক্ষী তার জবানবন্দিতে জানান, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান তাকে ফোন করেন। মহাপরিচালক জানান যে প্রতিমন্ত্রী পলক বিটিআরসি চেয়ারম্যানকে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বা আপস্ট্রিম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ১৮ জুলাই আইটিসি অপারেশনস নামে একটি গ্রুপ খোলা হয় যেখানে বিটিআরসির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।
আদালতে সাক্ষী আরও বলেন, ঐ দিন রাত ৯টার দিকে অপারেটরদের মাধ্যমে সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় যা ২৩ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পরবর্তীতে ২৩ জুলাই এক বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ রেখে নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইন্টারনেট চালুর মৌখিক নির্দেশনা দেন।
সবশেষে ৩১ জুলাই বিটিআরসি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পুনরায় ইন্টারনেট পুরোপুরি চালু করার নির্দেশ দেন পলক।
সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
এনএন/ ১৬ এপ্রিল ২০২৬









