ব্যবসা

নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন, মুরগি ও ভোজ্যতেলসহ সবজির দামে দিশেহারা ক্রেতারা

ঢাকা, ১০ এপ্রিল – দেশের বাজারে মুরগি, ভোজ্যতেল, চিনি, এলপিজি এবং সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনছেন অথবা কম দামি বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ অনিশ্চয়তা এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রোটিনের প্রধান উৎস মুরগির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সোনালি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ২৭০ থেকে ৩২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় এবং গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৮০০ টাকার নিচে নামছে না। ভোজ্যতেলের বাজারেও সরবরাহ সংকট চরমে। খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮৪ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে যথাক্রমে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা ছিল।

প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের গায়ের দর ১৯৫ টাকা লেখা থাকলেও তা ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। চিনির দামও ঊর্ধ্বমুখী, ঈদের আগে প্রতি কেজি ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১০৫ টাকায় ঠেকেছে। রাজধানীর জোয়ারসাহারা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম জানান, বাজারে ভোজ্যতেলের তীব্র সংকট চলছে এবং বাড়তি দাম দিয়ে তাদের পণ্য কিনতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা জানান, বৈশ্বিক অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকটে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব ভোজ্যতেলের বাজারে পড়েছে।

অন্যদিকে রান্নার গ্যাসের দামেও বড় ধাক্কা লেগেছে। এপ্রিলে ১২ কেজি এলপিজির সরকারি দাম ৩৮৭ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও খুচরা বাজারে তা দুই হাজার টাকার নিচে মিলছে না বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। সবজির বাজারও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা যায়, করলা, বরবটি, ধুন্দলসহ বেশির ভাগ সবজি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা সরবরাহ ঘাটতি এবং পরিবহন ব্যয়কে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ বলে দাবি করলেও বাজারের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জানান, একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজার তদারকিতে সরকারের মনোযোগ কম থাকার সুযোগ নিয়ে বিক্রেতারা নানা অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভলান্টারি কনজিউমারস ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক খলিলুর রহমান সজল বলেন, খামার পর্যায়ে উৎপাদন কমে যাওয়ায় মুরগির সংকট তৈরি হয়েছে। আলু ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা সহনীয় থাকলেও সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের সীমাহীন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এস এম/ ১০ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language