আইন-আদালত

মগবাজারের নবীন ফ্যাশনে বিশৃঙ্খলা: আদালতে পুলিশের নিঃশর্ত ক্ষমা ও ব্যাখ্যা

ঢাকা, ২৯ মার্চ – রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে অবস্থিত নবীন ফ্যাশনে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজা। তিনি জানিয়েছেন, মূলত আকর্ষণীয় অফারকে কেন্দ্র করে হঠাৎ অতিরিক্ত ভিড় এবং বাইকারদের চাপের কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে তিনি এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এ সময় ওসি আদালতকে বলেন, পুলিশ দায়িত্ব পালনে কোনো ভুল করে থাকলে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

এর আগে পাঞ্জাবির ওই দোকানটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন আদালত। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং দ্রুত দোকানটি চালুর নির্দেশ প্রদান করা হয়। গত বুধবার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দিয়েছিলেন। ওসি গোলাম মর্তুজা আদালতের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, বিশাল সেন্টারে প্রায় তিন বছর ধরে নবীন ফ্যাশন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তারা নিয়মিত কম দামে পণ্য বিক্রিসহ নানা আকর্ষণীয় অফার দিয়ে থাকে। গত ২০ মার্চ দোকানটি বিশেষ অফার ঘোষণা করে যে দুটি পাঞ্জাবি কিনলে চারটি ফ্রি পাওয়া যাবে।

এছাড়া বাইকারদের জন্য ফ্রি ইঞ্জিন অয়েল এবং রিকশা ভাড়াও ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচার চালানো হলে জুমার নামাজের আগে থেকেই দোকানের সামনে ক্রেতাদের ঢল নামে। প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য মোটরসাইকেলের আনাগোনা এবং ক্রেতাদের অতিরিক্ত ভিড়ে দোকানের সামনে ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে বিকেল পাঁচটার দিকে দোকান কর্তৃপক্ষ অফার বন্ধের ঘোষণা দিয়ে দোকান বন্ধ করে দেয়। তবে ক্রেতারা পেছনের গেট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

এ সময় মার্কেট কমিটির নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপপরিদর্শক আরিফুল ইসলাম ভিড় নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা লুটপাটের ঘটনা ঘটতে দেননি। ওসি আরও জানান, তিনি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির খোঁজ রাখছিলেন এবং পরে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। রাতে দোকানের মালিক এনামুল হাসান নবীনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দোকান খোলার অনুরোধ করা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

পরে ওসি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মার্কেট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে। দোকান মালিক অভিযোগ করেছিলেন যে এক ব্যবসায়ী তার কর্মচারীদের হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে ওসি তাকে প্রথমে মার্কেট কমিটির কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। ওসি আদালতকে নিশ্চিত করেন, তিনি কখনও বলেননি যে মার্কেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পারা যাবে না বা তারা প্রভাবশালী। আদালতের নির্দেশে ২৬ মার্চ পুলিশের উপস্থিতিতে দোকানটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয় এবং সার্বিক নিরাপত্তার মধ্যে তাদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

এস এম/ ২৯ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language