দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত তিন সাংবাদিক

বৈরুত, ২৯ মার্চ – দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার ২৮ মার্চ জেজিন হাইওয়েতে সংবাদকর্মীদের বহনকারী একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হিজবুল্লাহর আল-মানার টেলিভিশনের প্রবীণ প্রতিনিধি আলী শোয়েব এবং আল-মায়াদিন টিভির প্রতিনিধি ফাতিমা ফতুনি। হামলায় ফাতিমা ফতুনির ভাই এবং ফ্রিল্যান্স ভিডিও সাংবাদিক মোহাম্মদ ফতুনিও প্রাণ হারিয়েছেন। আল-মায়াদিন টিভি জানিয়েছে যে দক্ষিণ লেবাননে তাদের দীর্ঘদিনের সংবাদদাতা আলী শোয়েব নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কোনো প্রমাণ ছাড়াই শোয়েবকে হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। বৈরুতভিত্তিক প্যান আরব আল-মায়াদিন টিভি আরও জানায় যে জেজিন জেলায় ফাতিমা ফতুনি এবং তার ভাই নিহত হয়েছেন। হামলার ঠিক আগে ফাতিমা একটি সরাসরি প্রতিবেদন নিয়ে সম্প্রচারে ছিলেন। লেবাননের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই ঘটনাকে একটি সুস্পষ্ট অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান যে এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও যুদ্ধের নিয়মাবলির চরম লঙ্ঘন।
সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকারী জেনেভা কনভেনশন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭৩৮ নম্বর রেজোল্যুশনের কথা উল্লেখ করে জোসেফ আউন বলেন সংবাদকর্মীরা যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিক হিসেবে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মরকোসও এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে তাদের মূল লক্ষ্য ছিলেন আলী শোয়েব। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি শোয়েব সাংবাদিকতার আড়ালে হিজবুল্লাহর অভিজাত রেদওয়ান ফোর্সের গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্য হিসেবে কাজ করতেন এবং ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করে তথ্য পাচার করতেন। তবে আইডিএফ এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। হিজবুল্লাহ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে সাংবাদিকদের আক্রমণ করার দায় এড়াতে এটি ইসরায়েলের একটি অজুহাত মাত্র।
এস এম/ ২৯ মার্চ ২০২৬









